৪১৭ রানের ম্যাচে ভারতকে হারাল পাকিস্তান
খেলা ডেস্ক
০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২২:৩৬
ভারত-পাকিস্তান লড়াই মানেই বাড়তি উত্তেজনা। সেই উত্তেজনার ম্যাচে এবার শেষ হাসি হাসল পাকিস্তানের যুবারা। এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতকে ৩ উইকেটে হারিয়েছে তারা। ৪১৭ রানের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে পাকিস্তানের জয়ের নায়ক হামজা জাহুর। তার অপরাজিত সেঞ্চুরিতে নিশ্চিত হয়েছে স্মরণীয় এই জয়।
রোববার ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে আগে ব্যাট করে ৪৬.১ ওভারে ২০৮ রানে অলআউট হয় ভারত। জবাবে ২০৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৬৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে পাকিস্তান। সেখান থেকে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন জাহুর ও হাসনাইন আব্বাস দার। শেষ পর্যন্ত ৪৯তম ওভারে ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে পাকিস্তান।
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি পাকিস্তানের। ইশান সুদের বলে জাহাঙ্গীর বিলাল ফেরেন মাত্র ৫ রান করে। আগের ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা উসমান খানও এবার বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ২৩ বলে ১৬ রান করে মোহিত উলভার শিকার হন তিনি।
এরপর মানাল চৌহানের আঘাতে চাপে পড়ে পাকিস্তান। ২০ রান করা আবদুল কাদিরকে ফেরানোর পর অধিনায়ক ফারহান ইউসুফকে সাজঘরের পথ দেখান কাব্য পারেশ প্যাটেল। পরে আহমেদ হুসাইনকে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় উইকেট নেন চৌহান। তাতে ৬৫ রানেই ৫ উইকেট হারিয়ে বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়ে পাকিস্তান।
তবে সেখান থেকে হাল ছাড়েননি জাহুর। হাসনাইন আব্বাস দারকে সঙ্গে নিয়ে শুরু করেন পাল্টা লড়াই। ষষ্ঠ উইকেটে ১০৭ রান যোগ করে ভারতের বোলারদের চাপে ফেলে দেন তারা। জাহুর তুলে নেন অর্ধশতক। ৬৭ বলে ৩৮ রান করে আব্বাস দার ফিরলে ভাঙে এই জুটি। এরপর মোহাম্মদ সাইয়ামও ৪ রান করে আউট হন।
তবে ততক্ষণে জয়ের পথ তৈরি করে ফেলেছেন জাহুর। এক প্রান্ত আগলে রেখে দলকে লক্ষ্যে পৌঁছে দেন এই ব্যাটার। ১০৮ বলে ১০টি চার ও ৩টি ছক্কায় ঠিক ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। যুব ওয়ানডেতে এটি তার স্মরণীয় এক সেঞ্চুরি।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপাকে পড়ে ভারত। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই অধিনায়ক লক্ষ্ম্য রাইচান্দানিকে ফিরিয়ে দেন আলী রাজা। এরপর ভিকে বিনীতকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান তিনি। যশবর্ধন চৌহানকে ফিরিয়ে ভারতের বিপদ আরও বাড়ান রিজওয়ানউল্লাহ। মাত্র ২২ রানেই ৩ উইকেট হারায় ভারত।
আর্যবীর সেহওয়াগ ২২ রান করে ফিরলে চাপে আরও বাড়ে। পরে অরজুন রাজপুত ও অনভয় দ্রাবিড়ের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে ভারত। তবে ১০ রান করা দ্রাবিড়কে ফিরিয়ে সেই জুটি ভাঙেন নিখাব শফিক। ৭০ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর দলের হাল ধরেন অরজুন।
মানাল চৌহানকে সঙ্গে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে যোগ করেন ৬৪ রান। এই জুটিতে অর্ধশতক পূর্ণ করেন অরজুন। পরে তুলে নেন যুব ওয়ানডেতে নিজের প্রথম সেঞ্চুরিও। তার ব্যাটেই লড়াই করার মতো সংগ্রহ পায় ভারত। তবে ১১ রান করা চৌহানকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন রিজওয়ানউল্লাহ।
এরপর অরজুনের ১০৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংসেরও ইতি টানেন তিনি। ৮৫ বলের ইনিংসটি সাজানো ছিল ১১টি চার ও ৫টি ছক্কায়। তখন ভারতের সংগ্রহ ১৭০ রানে ৭ উইকেট।
শেষ দিকে আর বড় সংগ্রহ গড়তে পারেনি ভারত। আলী রাজা ও নিখাব শফিক নিজেদের তৃতীয় উইকেট তুলে নেন। শেষ উইকেট হিসেবে কাব্য পারেশ প্যাটেলকে ফিরিয়ে ভারতকে ২০৮ রানে থামান মোহাম্মদ সাইয়াম। কাব্য করেন ৪৫ বলে ২৩ রান।
পাকিস্তানের হয়ে আলী রাজা, রিজওয়ানউল্লাহ ও নিখাব শফিক প্রত্যেকেই ৩টি করে উইকেট নেন। একটি উইকেট পান মোহাম্মদ সাইয়াম।