হামজার জোড়া গোলেও জয় পেল না বাংলাদেশ
খেলা ডেস্ক
১৩ নভেম্বর ২০২৫, ২২:১৮
জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচ শেষ হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগে পর্যন্ত গ্যালারিতে বাজছিল জয়ধ্বনি—স্কোরলাইন বাংলাদেশ ২, নেপাল ১। কিন্তু ইনজুরি সময়ের তৃতীয় মিনিটে কর্নার থেকে অনন্ত তামাংয়ের হেডে সেই উল্লাস মিলিয়ে যায়। ম্যাচ শেষ হয় ২-২ সমতায়। আবারও শেষ মুহূর্তের গোল হজমে হতাশায় ডুবে জামালরা।
প্রথমার্ধে ০-১ গোলে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। বিরতির পর শুরুতেই বদলে যায় খেলার চিত্র। মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে জোড়া গোল করে মাঠ কাঁপান হামজা চৌধুরি। তাঁর একটিতে বাইসাইকেল কিক, আরেকটি পেনাল্টি থেকে নিখুঁত শট—দু’টিই যেন বাংলাদেশের স্বপ্ন ফেরায়।
তবে কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা ৮০ মিনিটে হামজাকে তুলে নেওয়ার পর থেকেই ছন্দ হারাতে থাকে দল। সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনজুরি সময়ে গোল করে নেপাল সমতা ফেরায়।
বাংলাদেশের ভাগ্যে এমন দৃশ্য নতুন নয়। গত ৯ অক্টোবর ঢাকায় হংকংয়ের বিপক্ষেও ৩-৩ সমতা এনে ইনজুরি সময়ে হারতে হয়েছিল জামাল ভূঁইয়াদের। ঠিক এক মাস পর নেপালের বিপক্ষে সেই হতাশারই পুনরাবৃত্তি।
ম্যাচের শুরুটা ছিল নেপালের দখলে। ৩২তম মিনিটে রোহিত চাদের জোরালো শটে লিড নেয় সফরকারীরা। সাদ উদ্দিনের মার্কিং ভুল আর সোহেল রানার ক্লিয়ারেন্স ব্যর্থতায় সেই গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় বাংলাদেশ। কোচ ক্যাবরেরা সোহেল রানার বদলে নামান সামিত সোমকে। আর তাতেই আক্রমণে প্রাণ ফিরে আসে। ৪৬তম মিনিটে অধিনায়ক জামালের হালকা চিপে বল পান হামজা। অসাধারণ এক বাইসাইকেল কিকে জাল কাঁপান তিনি—যে গোল দেখেই স্টেডিয়াম ফেটে পড়ে উল্লাসে।
তিন মিনিট পরই রাকিব হোসেনকে বক্সের মধ্যে ফাউল করে বসেন নেপালের সুমন শ্রেষ্ঠা। পেনাল্টি থেকে দ্বিতীয়বার বল পাঠান জালে হামজা। ৫ ম্যাচে এ নিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়াল ৪। শেষ মুহূর্তে গোল হজম না করলে হয়তো প্রীতি ম্যাচ হলেও জয়ের স্বাদ পেত বাংলাদেশ। তবু এই ম্যাচে উজ্জ্বল দিক ছিল হামজার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স।
আগামী ১৮ নভেম্বর ঢাকায় এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে নামবে বাংলাদেশ। নেপালের বিপক্ষে এই ম্যাচই ছিল সেই প্রস্তুতির শেষ পরীক্ষা—যার ফলাফলে না মিললেও শেখার অনেক কিছু রেখে গেল জামাল ভূঁইয়াদের জন্য।
এমআই