Advertisement
Us Bangla Airlines
মাদ্রিদ থেকে ব্রাজিল—আনচেলত্তির স্বপ্ন এখন ষষ্ঠ শিরোপা

মাদ্রিদ থেকে ব্রাজিল—আনচেলত্তির স্বপ্ন এখন ষষ্ঠ শিরোপা

খেলা ডেস্ক

১৭ মার্চ ২০২৬, ২১:০০

ইউরোপের রাজকীয় মঞ্চ ছেড়ে এবার সাম্বার দেশে নতুন ইতিহাস লেখার মিশনে কার্লো আনচেলত্তি। রিয়াল মাদ্রিদে সাফল্যের সোনালি অধ্যায় শেষ করে ব্রাজিলের ডাগআউটে দাঁড়িয়েছেন অভিজ্ঞ এই কোচ, লক্ষ্য একটাই—সেলেসাওদের হাতে তুলে দেওয়া বহুল প্রতীক্ষিত ষষ্ঠ বিশ্বকাপ। স্প্যানিশ ক্রীড়া দৈনিক ‘মার্কা’র রেডিওর ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে ব্রাজিল ফুটবল ফেডারেশনের সদর দপ্তরে দেওয়া এক খোলামেলা সাক্ষাৎকারে আনচেলত্তি তুলে ধরেছেন তাঁর নতুন যাত্রার অনুভূতি, ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের আবেগ, আর বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের রূপরেখা।

প্রশ্ন: নতুন পরিবেশে আপনাকে স্বাগত। রিয়াল মাদ্রিদের ভালদেবেবাসের তুলনায় এখানে তো একেবারে ভিন্ন আবহ...
আনচেলত্তি: ভালদেবেবাসে আমার অফিসটা বড় ছিল, কিন্তু এখানকার পরিবেশ আলাদা। এখানে রঙ, আনন্দ আর প্রাণচাঞ্চল্য বেশি।

প্রশ্ন: চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের পর মাদ্রিদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত—ব্রাজিলই কি একমাত্র গন্তব্য ছিল?
আনচেলত্তি: আমার কাছে তাই মনে হয়েছে। অন্য কোনো ক্লাবে যাওয়ার কথা ভাবিনি। দুই বছর আগে প্রস্তাব পেয়েছিলাম, কিন্তু তখন চুক্তি নবায়ন করি। পরে মনে হয়েছে, এবার বিদায় বলার সময় এসেছে।

তবুও আনচেলত্তিকে পেতে ব্রাজিলের অপেক্ষা

প্রশ্ন: আপনাকে বেশ ফুরফুরে লাগছে!
আনচেলত্তি: (হেসে) ধন্যবাদ!

প্রশ্ন: চাপ কি কমে গেছে?
আনচেলত্তি: অবশ্যই, এখন চাপ অনেক কম।

প্রশ্ন: কেন?
আনচেলত্তি: জাতীয় দলে প্রতিদিন ম্যাচ বা অনুশীলনের চাপ নেই। কাজটা মূলত পর্যবেক্ষণ করা। অনেক খেলোয়াড়কে দেখতে হয়—ব্রাজিলে অন্তত ৭০ জন আছেন যারা দলে খেলার যোগ্য।

প্রশ্ন: কিন্তু সামনে তো বিশ্বকাপ, প্রত্যাশা বিশাল...
আনচেলত্তি: প্রত্যাশা আগেই ছিল। এটা চাপ নয়, বরং বড় অনুপ্রেরণা।

রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ছেন কার্লো আনচেলত্তি!

প্রশ্ন: রাস্তায় বের হলে সেই চাপ টের পান?
আনচেলত্তি: না, বরং ভালোবাসা পাই। ব্রাজিলে ফুটবল একেবারে আবেগের বিষয়।

প্রশ্ন: দায়িত্ব নেওয়ার আগে কোনো দ্বিধা ছিল?
আনচেলত্তি: একদমই না। সবাই দারুণভাবে গ্রহণ করেছে।

প্রশ্ন: ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তিদের ঐতিহ্য কতটা অনুপ্রাণিত করে?
আনচেলত্তি: অনেক। এখানে পেলে, জিকো, রোমারিও—সবাই যেন উপস্থিত।

প্রশ্ন: শুধু ব্রাজিলিয়ানদের নিয়ে আপনার সেরা একাদশ?
আনচেলত্তি: গোলপোস্টে দিদা। ডিফেন্সে কাফু, মিলিতাও বা থিয়াগো সিলভা, মার্সেলো। মাঝমাঠে কাসেমিরো, কাকা। সামনে রদ্রিগো, ভিনিসিয়ুস। স্ট্রাইকার বাছাই কঠিন—রোনালদো নাজারিও, রিভালদো না রোনালদিনিও!

কোচ আনচেলত্তির অধ্যায় কি এখানেই শেষ হচ্ছে?

প্রশ্ন: বিশ্বকাপের দল কি প্রায় চূড়ান্ত?
আনচেলত্তি: এখনো না। বিশেষ করে আক্রমণে অনেক বিকল্প আছে।

প্রশ্ন: ২০০১ সালে আপনি কোথায় ছিলেন?
আনচেলত্তি: তখন জুভেন্টাস থেকে বরখাস্ত হয়েছিলাম, নতুন সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম।

প্রশ্ন: সেই সময়টা কী শিখিয়েছে?
আনচেলত্তি: কোচদের বরখাস্ত হওয়া স্বাভাবিক। সময়ের সঙ্গে এটাকে মেনে নিতে শিখেছি।

প্রশ্ন: ফুটবল কতটা বদলেছে?
আনচেলত্তি: অনেক। তীব্রতা বেড়েছে, কিন্তু নান্দনিকতা সব সময় বাড়েনি।

প্রশ্ন: রিয়াল মাদ্রিদকে মিস করেন?
আনচেলত্তি: স্মৃতি আছে, ভালোবাসা আছে। তবে এখন আমি নতুন চ্যালেঞ্জে মনোযোগী।

রিয়ালের সঙ্গে সমঝোতা, ব্রাজিলেই যাচ্ছেন আনচেলত্তি!

প্রশ্ন: পুরোনো খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ আছে?
আনচেলত্তি: হ্যাঁ, নিয়মিতই কথা হয়। রদ্রিগোর সঙ্গেও কথা বলেছি।

প্রশ্ন: ব্রাজিলকে ‘ক্লিক’ করাতে কী দরকার?
আনচেলত্তি: সঠিক পরিবেশ আছে। চাপকে অনুপ্রেরণায় রূপ দিতে হবে।

প্রশ্ন: আপনার প্রিয় কোনো প্রবাদ?
আনচেলত্তি: “পরিশ্রম আর ত্যাগ তখনই প্রতিভাকে হারায়, যখন প্রতিভা পরিশ্রম করে না।”

প্রশ্ন: ভিনিসিয়ুস কি বিশ্বকাপ মাতাতে পারবে?
আনচেলত্তি: অবশ্যই। বড় ম্যাচে সে কখনো হারায় না। আমি নিশ্চিত, ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দারুণ বিশ্বকাপ খেলবে।

প্রশ্ন: ব্রাজিলিয়ান খেলোয়াড়দের আলাদা বৈশিষ্ট্য কী?
আনচেলত্তি: তারা হাসিখুশি, বিনয়ী এবং অসাধারণ প্রতিভাবান।