এক ম্যাচে দুই সুপার ওভার, বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য ঘটনা
খেলা ডেস্ক
১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:৪৬
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সুপার ওভারের ঘটনা নতুন নয়। তবে সুপার ওভার টাই হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম। এক ম্যাচে দুই সুপার ওভার শেষে ম্যাচ জয়ের দেখা পেল দক্ষিণ আফ্রিকা। তাতে দুইবার জয়ের কাছে পৌঁছেও মহানাটকীয়তার ম্যাচে অবিশ্বাস্যভাবে পরাজয় বরণ করল রশিদ খানের দল।
ম্যাচের শুরুতে ব্যাট করতে নেমে রিকেলটন ও ডি ককের জোড়া ফিফটিতে ১৮৭ রানের চ্যালেঞ্জিং পুঁজি পেয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। লক্ষ্য তাড়ায় জয়ের পথে ছিল আফগানিস্তানও। তবে শেষ ওভারে ১৩ রান নিতে গিয়ে ১২ রানে আটকা পড়ে আফগানরা। তাতেই সুপার ওভারে গড়ায় ম্যাচ।
সুপার ওভারে ব্যাটিংয়ে আসেন আফগানিস্তানের দুই ব্যাটার আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও রহমানউল্লাহ গুরবাজ। বোলিংয়ে ছিলেন লুঙ্গি এনগিদি। প্রথম দুই বলেই দুটি বাউন্ডারি হাঁকান ওমরজাই। পরের দুই বলে দুটি সিঙ্গেলস। পঞ্চম বলে আরেকটি বাউন্ডারি পেলেন আজমতউল্লাহ। তাতে স্কোরবোর্ডে ১৭ রান তুলে তারা।

১৮ রানের লক্ষ্যে প্রথম বলে সিঙ্গেল, দ্বিতীয় বলে ছক্কার পর তৃতীয় বলে উইকেট হারায় দক্ষিণ আফ্রিকা। চতুর্থ বলে বাউন্ডারি, পঞ্চম বলে ডট দেওয়ার পর শেষ বল ছক্কা হাঁকিয়ে স্কোরবোর্ডে ১৭ রান তুলে প্রোটিয়ারাও। তাতে বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো সুপার ওভার টাই হওয়ার ঘটনা দেখা গেল।
দ্বিতীয় সুপার ওভারে আফ্রিকার হয়ে ব্যাটিং নামেন ট্রিস্টান স্টাবস ও ডেভিড মিলার। বোলিংয়ে আসেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই। স্টাবস এক ও মিলারের দুই ছক্কায় সেই ওভারে ২৩ রান তুলে প্রোটিয়ারা। জবাবে আফগানদের হয়ে খেলতে নামেন অভিজ্ঞ মোহাম্মদ নবী ও আজমতউল্লাহ ওমরজাই। বোলিংয়ে কেশব মহারাজ।
তবে এই ম্যাচে অভিজ্ঞতার ছাপ রাখতে পারেননি নবী। প্রথম দুই বল খেলে ডাক মেরে ফিরেন তিনি। তিনে ব্যাট করতে নামেন রহমানউল্লাহ গুরবাজ, যখন সমীকরণ ছিল চার বলে ২৪ রান। মাঠে নেমে প্রথম তিন বলে তিন ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তুলেন গুরবাজ। তবে শেষ বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরায় ম্যাচ জিতে যায় প্রোটিয়ারা।

এর আগে টস জিতে প্রোটিয়াদের ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে শুরুতেই সাফল্য পায় আফগানিস্তান। অধিনায়ক এইডেন মার্করামকে তুলে নেন ফজলহক ফারুকি। তবে শুরুর ধাক্কা সামলে উঠেন রায়ান রিকেলটন আর কুইন্টন ডি কক। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেটে ৪৩ রান তোলে প্রোটিয়ারা। ৬১ বলে ১১৪ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন দুই ব্যাটার।
৪১ বলে ৫ চার আর ৩ ছক্কায় ৫৯ রান করে রশিদ খানের বলে ডি কক সাজঘরে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। ওই ওভারেই রশিদ ফেরান ২৩ বলে ফিফটি হাঁকানো রিকেলটনকে। ২৮ বলে ৬১ রানের ইনিংসে ৫টি বাউন্ডারির সঙ্গে ৪টি ছক্কা মারেন তিনি। শেষদিকে ডেভিড মিলার ১৫ বলে ২০ আর মার্কো জানসেন ৬ বলে ১৬ রানের দুটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন।
আফগানিস্তানের আজমতউল্লাহ ওমরজাই ৩টি আর রশিদ খান নেন দুই উইকেট। জবাবে দারুণ শুরু পায় আফগানিস্তান। ৪২ বলে ৪ চারের মার ও ৭ ছক্কায় ৮২ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন ওপেনার রহমানউল্লাহ গুরবাজ। ২৬ রানে ৩ উইকেট নেন লুঙ্গি এনগিডি।
এমআই