মিরপুরের সবুজ উইকেটে বাংলাদেশের নতুন পরীক্ষা
খেলা ডেস্ক
০৭ মে ২০২৬, ২০:৪৫
স্পিনস্বর্গ হিসেবে পরিচিত মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম এবার যেন অন্য এক চরিত্রে হাজির হতে যাচ্ছে। বহুদিন ধরে কালো মাটির নিচু ও মন্থর উইকেটে প্রতিপক্ষকে জালে ফেলার কৌশল নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই কৌশলই অনেক সময় উল্টো চাপ তৈরি করেছে নিজেদের ব্যাটারদের ওপর। ধীরগতির বল, অপ্রত্যাশিত টার্ন আর অসম বাউন্সে স্বাভাবিক ব্যাটিং করাটাই হয়ে উঠেছিল কঠিন। শুধু তাই নয়, ঘরের মাঠে রহস্যময় উইকেটে খেলে অভ্যস্ত হওয়ার মূল্যও দিতে হয়েছে বিদেশের মাটিতে।
বিশ্ব ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে তাই পুরোনো পথ থেকে সরে আসছে বাংলাদেশ টিম ম্যানেজমেন্ট। পাকিস্তানের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে এবার পুরোপুরি স্পিননির্ভর পিচে হাঁটছে না টাইগাররা। বরং মিরপুরে দেখা যেতে পারে তুলনামূলক সবুজ ও বাউন্সি উইকেট। কিউরেটর টনি হেমিংয়ের প্রস্তুতি এবং প্রধান কোচ ফিল সিমন্সের বক্তব্যেও মিলেছে সেই ইঙ্গিত। অর্থাৎ, এবার লক্ষ্য প্রতিপক্ষকে শুধু স্পিনে আটকে ফেলা নয়; বরং এমন একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ উইকেট তৈরি করা, যেখানে পেসার ও ব্যাটার উভয়ের পরীক্ষা হবে।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের ব্যাটিং ইউনিটের সামনে। সবুজ উইকেটে নতুন বলে পেসারদের সুইং ও সিম মুভমেন্ট সামলানো সহজ হবে না। তাই সিরিজে টপ অর্ডারের ভূমিকা হয়ে উঠবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ওপেনারদের দায়িত্ব থাকবে শুরুর ঝড় সামলে ইনিংসের ভিত গড়ে দেওয়া। সাদমান ইসলামের সঙ্গে ওপেনিংয়ে কে নামবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সুইং বলে জয়ের দুর্বলতা আগেও চোখে পড়েছে। সেই জায়গায় তামিমকে সুযোগ দিতে হলে নির্বাচকদের ঝুঁকি নিতে হবে।
তিন ও চারে নেমে শান্ত এবং মুমিনুল হককে ইনিংস ধরে রাখার দায়িত্ব নিতে হবে। পাঁচ নম্বরে মুশফিকুর রহিমের অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে বড় ভরসা। আর ছয়ে নামা লিটন দাস ম্যাচ পরিস্থিতি বুঝে খেলার দক্ষতায় আলাদা। নিচের দিকেও বাংলাদেশের ব্যাটিং আগের চেয়ে শক্তিশালী। মেহেদী হাসান মিরাজ ও তাইজুল ইসলাম ব্যাট হাতে কার্যকর অবদান রাখতে পারেন। টেস্ট ক্রিকেটে শেষ দিকের ৪০-৫০ রান অনেক সময় ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। তাই লোয়ার অর্ডারের দায়িত্বও কম নয়।
তবে ব্যাটিংয়ের গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে পাকিস্তানের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপ। বাবর আজম, মোহাম্মদ রিজওয়ান, শান মাসুদ, ইমাম-উল-হক ও সৌদ শাকিলদের মতো ব্যাটারদের বিপক্ষে শুধু বোলিং দিয়ে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। বাংলাদেশকে তাই রান বোর্ডে তুলতেই হবে। অবশ্য টাইগারদের বোলিং আক্রমণও কম ভয়ংকর নয়। তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানারা নতুন বলে গতি আর বাউন্সে চাপ তৈরি করতে পারেন। স্পোর্টিং উইকেটে তাদের কার্যকারিতা আরও বাড়ার সম্ভাবনা আছে। কিন্তু সেই বোলিংকে ম্যাচ জেতানোর অবস্থানে নিতে হলে ব্যাটারদেরই আগে ভিত্তি গড়ে দিতে হবে।
এমআই