Advertisement
Us Bangla Airlines
২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

২১ বছর পর অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ২০:২৩

দীর্ঘ ২১ বছরের অপেক্ষার অবসান। ওয়ানডেতে অবশেষে অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে মোসাদ্দেক ও শান্তের দৃঢ়তায় বড় সংগ্রহ পায় টাইগাররা। এরপর বল হাতে নাহিদ রানার আগুনঝরা স্পেল আর মোসাদ্দেকের কার্যকর বোলিংয়ে ধরাশায়ী হয় সফরকারীরা। ফলে সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে ৮৬ রানের দাপুটে জয় তুলে নিয়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে আগে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা। শুরুতেই ৫ রান করে ফেরেন সাইফ হাসান। তবে দ্বিতীয় উইকেটে নাজমুল হোসেন শান্ত ও তানজিদ হাসান তামিম ৯৭ রানের জুটি গড়ে ইনিংস মজবুত করেন। তামিম ৪৪ বলে ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৫৪ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলে আউট হন।

লিটন দাস ৭ রান করে ফেরার পর শান্তর সঙ্গে জুটি গড়েন তাওহিদ হৃদয়। শান্ত ৮৬ বলে ৬৭ রানের ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ৯টি চার ও ১টি ছক্কা। অন্যদিকে হৃদয় ৩১ রান করে বিদায় নেন। মধ্য ও শেষ ভাগে বাংলাদেশের ইনিংসের হাল ধরেন মোসাদ্দেক হোসেন।

মেহেদী হাসান মিরাজ দ্রুত ফিরলেও একপ্রান্ত আগলে রেখে রান তুলতে থাকেন তিনি। শেষদিকে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের স্কোর নিয়ে যান ২৮৪ রানে। ৭০ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৮৬ রান করেন মোসাদ্দেক। তাসকিন ১৬ বলে করেন ২০ রান।

২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টকে ফিরিয়ে দেন তাসকিন আহমেদ। পরের ওভারেই মোস্তাফিজুর রহমান সাজঘরে পাঠান মার্নাস লাবুশেনকে। মাত্র ২ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে ধাক্কা খায় সফরকারীরা।

সেখান থেকে কুপার কনোলি কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও ৩৫ রান করে মোসাদ্দেকের শিকার হন। এরপর অ্যালেক্স ক্যারি ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। ৬২ বলে ৪৭ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। তবে অন্যপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে অস্ট্রেলিয়া।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে এনে দেন নাহিদ রানা। নিজের গতি ও আগ্রাসী বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামান এই তরুণ পেসার। একের পর এক আঘাতে সফরকারীদের প্রত্যাবর্তনের সব সম্ভাবনা শেষ করে দেন তিনি।

৪২.২ ওভারে ৯ উইকেটে ১৯১ রান সংগ্রহ করার পর বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ হয়ে যায়। তখন ক্যামেরন গ্রিন ৬৬ বলে ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন। পরে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন (ডিএলএস) পদ্ধতিতে বাংলাদেশকে ৮৬ রানের জয়ী ঘোষণা করা হয়।

বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা নেন ৪ উইকেট। এছাড়া মোস্তাফিজুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন শিকার করেন দুটি করে উইকেট। ব্যাট ও বল হাতে অলরাউন্ড নৈপুণ্য দেখিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন।

এমআই