Advertisement
Us Bangla Airlines
৩৪০ রানের ম্যাচে কষ্ট করে জিতল সিলেট

৩৪০ রানের ম্যাচে কষ্ট করে জিতল সিলেট

খেলা ডেস্ক

০১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:০১

এক প্রান্তে একে একে ভেঙে পড়ছিলেন সতীর্থরা। অন্য প্রান্তে একা লড়ে যাচ্ছিলেন শামীম হোসেন পাটোয়ারী। ব্যাট হাতে ঝড়ো ফিফটি, শেষ ওভার পর্যন্ত লড়াই সবই ছিল, কিন্তু শেষরক্ষা হলো না। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) দিনের প্রথম ম্যাচে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াই শেষে ঢাকাকে ৬ রানে হারিয়ে মাঠ ছাড়ল সিলেট টাইটানস।

বৃহস্পতিবার শুরুতে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৭৩ রান তোলে সিলেট। জবাবে ঢাকার ইনিংস থামে ১৬৭ রানে। রান তাড়ায় নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ঢাকা। মোহাম্মদ আমিরের আগুনঝরা স্পেলে প্রথম দুই ওভারে মাত্র ১ রান তুলতেই হারায় ১ উইকেট।

চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন সাইফ হাসান ও উসমান খান। তবে পাওয়ার প্লের শেষ বলে বিদায় নেন উসমান, ১৫ বলে করেন ২১ রান। পরের বলেই ফেরেন সাইফ (৯)। অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন রানের খাতাই খুলতে পারেননি, নাসির হোসেন থামেন ৫ রানে। ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে একপ্রকার ছিটকে যায় ঢাকা।

ষষ্ঠ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। সাব্বির রহমান করেন ২৩ রান (১৯ বলে), ইমাদ ওয়াসিম ১০ বলে ৮। সাইফউদ্দিনও ব্যর্থ। এরপর পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন শামীম হোসেন। তাসকিন আহমেদকে সঙ্গী করে শেষ ওভার পর্যন্ত লড়ে যান এই ডানহাতি ব্যাটার। 

মাত্র ৩২ বলে ফিফটি পূর্ণ করা শামীম শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে অপরাজিত থাকেন ৮১ রানে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭ রান। আমিরের করা ওই ওভারে তিনটি চার ও একটি ছক্কায় ২০ রান তুললেও ব্যবধান আর ঘোচানো সম্ভব হয়নি। তাসকিন ৫ বলে করেন ৩ রান।

এর আগে টস জিতে সিলেটকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় ঢাকা। শুরুটা ভালো হয়নি সিলেটেরও। দলীয় ১৫ রানে সালমান মির্জাকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন রনি তালুকদার (৭ বলে ১১)। ওয়ানডাউনে নামা অধিনায়ক মেহেদি হাসান মিরাজও থামেন দ্রুতই—তাসকিনের বলে ক্যাচ আউট (৬)।

চাপে পড়া দলকে টেনে তোলেন সাইম আইয়ুব ও পারভেজ হোসেন ইমন। তৃতীয় উইকেটে তাদের জুটিতে আসে ৬৪ রান। তবে ধীরগতির ২৯ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন সাইম (৩৪ বলে)। ৩২ বলে ৪৪ রান করে  তারপরই আউট হন ইমন। আফিফ হোসেন করেন ১৩ রান।

শেষ দিকে ম্যাচের রং পাল্টে দেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই ও ইথান ব্রুকস। বিশেষ করে সালমান মির্জার এক ওভারে ২২ রান তুলে নেন ওমরজাই। শেষ পর্যন্ত তিনি অপরাজিত থাকেন ২৪ বলে ৫০ রানে। ব্রুকস ৬ বলে করেন ১৩। ঢাকার ফিল্ডারদের কয়েকটি সহজ ক্যাচ মিসের সুযোগও কাজে লাগায় সিলেট।

ঢাকার পক্ষে সালমান মির্জা নেন ২ উইকেট। তাসকিন আহমেদ, সাইফ হাসান ও সাইফউদ্দিন পান ১টি করে। তবে শেষ দিকে ওমরজাইদের ঝড় সামলাতে না পেরে তাসকিন ও সালমান—দুজনই ৪ ওভারে ৪৬ রান করে দেন। শেষ পর্যন্ত শামীমের একার লড়াইকে ছাপিয়ে যায় সিলেটের দলগত পারফরম্যান্স।

এমআই