বিসিবিতে পরিচালক পদ হারানোর যত কারণ
খেলা ডেস্ক
১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫২
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলাম একের পর এক বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে তোপের মুখে পড়েছেন। তার পদত্যাগের দাবিতে ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (কোয়াব) সব ধরনের খেলা বয়কটের হুমকি দিয়েছে। কিন্তু এখনও নিজ দায়িত্বেই তিনি বহাল আছেন।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠেছে, বিসিবি কি কোনো পরিচালককে পদত্যাগে বাধ্য করতে পারে? এবং পদ হারানোর শর্তগুলো কী কী? কিংবা কোনো পরিচালককে কি চাইলেই বিসিবির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া যায়? নিজেদের গঠনতন্ত্রে সব উত্তর দিয়ে রেখেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড।
বিসিবির নিয়ম অনুযায়ী, একজন পরিচালক পদশূন্য হতে পারেন বিভিন্ন কারণে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যু বা নিজে থেকে পদত্যাগ করা, মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়া, শৃঙ্খলাজনিত শাস্তি পাওয়া, দীর্ঘ সময় অসুস্থ থাকা, বিদেশে যাওয়া, পরিচালনা পরিষদের পরপর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকা, অথবা অন্য কোনো জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের কার্যনির্বাহী বা পরিচালনা পদে থাকা। এই শর্তগুলো ছাড়া কোনো পরিচালককে পদত্যাগে বাধ্য করা সম্ভব নয়।

এর আগে তামিম ইকবালকে ভারতের দালাল বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করে সমালোচিত হয়েছিলেন নাজমুল ইসলাম। আর গতকাল বিকেলে বিশ্বকাপ না খেললে বোর্ড থেকে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না? এমন প্রশ্নের জবাবেও ক্ষিপ্ত হয়েছেন ক্রিকেটাররা।
বিসিবি পরিচালক নাজমুল বলেছিলেন, ‘বিসিবির হবে না, ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে। ক্রিকেটারদের ক্ষতি হবে কারণ তারা খেললে ম্যাচ ফি পায়। ম্যাচ সেরা হলেও পায়, পারফরম্যান্স অনুযায়ী পায়। এটা শুধুই ক্রিকেটারের পাওয়া। বোর্ডের লাভ-ক্ষতি নেই। অন্তত এই বিশ্বকাপের জন্য।’
আশানুরূপ পারফর্ম না করলে ক্রিকেটারদের বেতন কাটা হয় না, তাহলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কোন যুক্তিতে? সাংবাদিকদের কাছে এই পাল্টা প্রশ্ন করেছেন নাজমুল, ‘কেন? ওরা গিয়ে যদি কিছুই না করতে পারে, আমরা যে ওদের পেছনে এত কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, আমরা কি ঐ টাকা ফেরত চাচ্ছি নাকি? চাচ্ছি? এই প্রশ্নের উত্তর দেন আমাকে।’
তার করা এমন মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রাতেই কোয়াবের সভাপতি মোহাম্মদ মিঠুন সাংবাদিকদের সঙ্গে এক জুম মিটিংয়ে যুক্ত হয়ে জানিয়েছেন, ‘একজন দায়িত্বরত বোর্ড পরিচালক কখনোই এভাবে কথা বলতে পারেন না। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে উনার পদত্যাগ চাচ্ছি।’
এমআই