বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের বিবৃতি
খেলা ডেস্ক
২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৫:৫৫
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঠিক আগমুহূর্তে বাংলাদেশের অনুপস্থিতিকে ক্রিকেটের জন্যই এক বড় ক্ষতি বলে মনে করছে বিশ্ব ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডব্লিউসিএ)। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটারদের এই সংগঠনটি মনে করে, এমন সিদ্ধান্ত খেলাটিকে ঐক্যবদ্ধ করার বদলে আরও বিভক্ত করছে। আজ (রোববার) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেই উদ্বেগই স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছে সংস্থাটি।
রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারত সফরে যেতে অস্বীকৃতি জানায় বাংলাদেশ। এর পরিপ্রেক্ষিতেই গতকাল শনিবার ২০ দলের আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। যদিও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তাদের ম্যাচগুলো সহ-আয়োজক শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে সূচিতে পরিবর্তন সম্ভব নয় বলে জানায় আইসিসি।
ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মফাট বিবৃতিতে বলেন, ‘টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে প্রত্যাহার এবং এর ফলে ক্রিকেটের শীর্ষ আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি আসর থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটিং দেশের অনুপস্থিতি—এটি আমাদের খেলাটির জন্য, বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের জন্য এবং কোটি সমর্থকের জন্য দুঃখজনক।’
তিনি আরও বলেন, ক্রিকেটে বিভাজন বা বর্জনের সংস্কৃতি নয়, বরং ঐক্যের পথ বেছে নেওয়া জরুরি। ডব্লিউসিএর আহ্বান—সংস্থা, বিভিন্ন লিগ ও খেলোয়াড়সহ সব অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে ক্রিকেটের নেতৃত্বকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, যাতে খেলাটি বিভক্ত না হয়ে আরও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াতে পারে।
এই ঘটনাটি দক্ষিণ এশীয় ক্রিকেটে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বাস্তব চিত্রও সামনে এনে দিয়েছে। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের জটিলতার কারণে পাকিস্তান কোনো বৈশ্বিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করলে ভারতকে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে খেলানোর ব্যবস্থা করতে আগেও আইসিসিকে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছে।
আগামী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬-এ পাকিস্তানের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও দেশটির অংশগ্রহণ এখনও চূড়ান্ত নয় বলে জানিয়েছেন পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি। তার ভাষায়, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরলে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
ডব্লিউসিএ প্রধান টম মফাট আরও সতর্ক করে বলেন, চুক্তি মানা না হওয়া এবং খেলোয়াড় ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে অর্থবহ আলোচনা না হওয়ার প্রবণতা নিয়ে সংস্থাটি ক্রমেই উদ্বিগ্ন। তার মতে, এসব বিষয় বৈশ্বিক ক্রিকেট পরিচালনার কাঠামোর গভীর সমস্যাগুলোকে সামনে আনছে। যদি এই সমস্যাগুলোর সমাধান না হয়, তাহলে তা ক্রিকেটের ওপর বিশ্বাস, ঐক্য এবং শেষ পর্যন্ত খেলাটির ভবিষ্যৎকেই দুর্বল করে দেবে।
এমআই