Advertisement
Us Bangla Airlines
বিশ্বকাপে ঝলক দেখাতে পারেন যে ১০ ক্রিকেটার

বিশ্বকাপে ঝলক দেখাতে পারেন যে ১০ ক্রিকেটার

খেলা ডেস্ক

০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৫০

বিশ্বকাপ মানেই বড় মঞ্চ, আর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মানেই অলরাউন্ডারদের রাজত্ব। ব্যাটে ঝড়, বলে আগুন—এই দুইয়ের মিশেল যাঁদের রক্তে, তারাই পারেন একাই ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে। আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ঠিক এমনই কিছু অলরাউন্ডার আছেন, যাঁরা ব্যাটে-বলে বিশ্বকাপ মাতাতে পারেন। বিশ্বকাপের আগে সেই সেরা ১০ তারকা সর্ম্পকে জানা যাক।

১. অজমতউল্লাহ ওমরজাই (আফগানিস্তান)
আধুনিক আফগান ক্রিকেটের উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি ওমরজাই। ডানহাতি মিডিয়াম ফাস্ট বোলিংয়ের সঙ্গে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং, দুই দিকেই ভয়ংকর। ২০২৪ সালের আইসিসি বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটার হয়ে ইতিহাস গড়া এই অলরাউন্ডার বিশ্বকাপেও আফগানিস্তানের বড় ভরসা।

২. দীপেন্দ্র সিং আইরি (নেপাল)
বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ের প্রতিশব্দ দীপেন্দ্র। এশিয়ান গেমসে মাত্র ৯ বলে টি-টোয়েন্টির দ্রুততম হাফ সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ড তাঁরই। ব্যাটের সঙ্গে বল হাতেও কার্যকর এই নেপালি অলরাউন্ডারের জন্য বিশ্বকাপ নিঃসন্দেহে বড় পরীক্ষা।

৩. হার্দিক পান্ডিয়া (ভারত)
নিজের দিনে একাই ম্যাচ ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা রাখেন হার্দিক। মিডল অর্ডারে বিধ্বংসী ব্যাটিং, ডেথ ওভারে কার্যকর বোলিং। সব মিলিয়ে ভারতের সবচেয়ে বড় অলরাউন্ডিং অস্ত্র। টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেট পূর্ণ করা প্রথম ফাস্ট বোলিং অলরাউন্ডার হিসেবেও ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন তিনি।

৪. মোহাম্মদ নবী (আফগানিস্তান)
বয়স ৪১, কিন্তু ধার আর ক্ষুধা দুটোই অটুট। বল হাতে কৃপণ, ব্যাট হাতে প্রয়োজনমতো আগ্রাসী। আফগানিস্তানের অভিজ্ঞতার স্তম্ভ নবী সফল হলে দলের পথ অনেকটাই মসৃণ হয়ে যাবে। অভিজ্ঞ নবীর পরিসংখ্যানও তার পক্ষে কথা বলছে।

৫. মোহাম্মদ নাওয়াজ (পাকিস্তান)
বাঁহাতি স্পিনে নিয়ন্ত্রণ আর লোয়ার অর্ডারে দ্রুত রান, নওয়াজের এই দুই ভূমিকাই পাকিস্তানের জন্য অমূল্য। ২০২২ এশিয়া কাপের নায়ক এই অলরাউন্ডার ২০২৫-২৬ বিপিএলেও ছিলেন দারুণ ফর্মে। ইনজুরির কারণে বিপিএলের সব ম্যাচ খেলতে না পারলেও অস্ট্রেলিয়া সিরিজ ঝলক দেখিয়েছেন তিনি।

৬. রোমারিও শেফার্ড (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
মিডিয়াম পেসের সঙ্গে বিধ্বংসী ব্যাটিং—শেফার্ড মানেই শক্তি আর আগ্রাসন। আইপিএলে খেলার সুবাদে উপমহাদেশের কন্ডিশন ভালোই জানা। বিশ্বকাপে তাঁর দিকে আলাদা নজর থাকছেই। বড় ছক্কা হাঁকাতে পারদর্শী শেফার্ড নিজেদের দিনে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।

৭. রস্টন চেজ (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
ব্যাট ও অফস্পিন দুই হাতেই সমান দক্ষ রস্টন চেজ। মাঠে নানা ভূমিকায় দেখা যায় তাঁকে। দুইবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বড় ভূমিকা নিতে হবে এই অলরাউন্ডারকে। লম্বা হওয়ায় বল হাতে ভালো বাউন্স আদায় করতে পারেন এই অলরাউন্ডার।

৮. সাইম আইয়ুব (পাকিস্তান)
বাঁহাতি ওপেনিং ব্যাটার, সঙ্গে অফব্রেক বোলিং—সাইম আইয়ুব পাকিস্তানের তরুণ তাস। দ্রুত রান তোলার ক্ষমতা তাঁর বড় শক্তি। বল হাতে অবদান রাখতে পারলে দলে গুরুত্ব আরও বাড়বে। বিশ্বকাপে যাওয়ার আগে অলরাউন্ডার র‌্যাঙ্কিংয়ে নিজের নামটা শীর্ষে তুলেছেন এই তরুণ ক্রিকেটার।

৯. সিকান্দার রাজা (জিম্বাবুয়ে)
অধিনায়ক, অলরাউন্ডার, নেতা—সব একসঙ্গে সিকান্দার রাজা। ব্যাটে স্থিরতা, বলে নিয়ন্ত্রণ। আইপিএলের অভিজ্ঞতা থাকা এই তারকা উপমহাদেশের কন্ডিশনে জিম্বাবুয়ে সবচেয়ে বড় ভরসা। পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার মাটিতে বেশ সফল এই ক্রিকেটার। দলকে জয়ের ভূমিকা দিতে রাজা বহুবার নেতৃত্ব দিয়েছেন।

১০. ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা (শ্রীলঙ্কা)
লেগস্পিনে জাদু, ব্যাটে ঝোড়ো গতি—হাসারাঙ্গা মানেই ম্যাচ ঘোরানোর ক্ষমতা। দ্রুততম ১০০ উইকেটের মতো একাধিক রেকর্ডের মালিক এই অলরাউন্ডার ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় অস্ত্র। ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দাপিয়ে বেড়ানো এই ক্রিকেটার ব্যাটারদের মনটা ভালোই পড়তে পারেন।

এমআই