বিশ্বকাপে ৬৬ হাজার আসনের স্টেডিয়ামে টিকিট বিক্রি ৩৪৮টি!
খেলা ডেস্ক
০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮:২২
ভারতের ইডেন গার্ডেনস স্টেডিয়াম যেন ক্রিকেটের নন্দনকানন। ৬৬ হাজার আসনের এই স্টেডিয়ামের গ্যালারি কাঁপে দর্শকের গর্জনে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হবে একাধিক ম্যাচ। অথচ সেখানে দর্শকের ঢেউয়ের বিপরীতে দেখা মিলবে নীরবতার রাজত্ব। কারণ, এত বড় স্টেডিয়ামে এক ম্যাচে টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩৪৮টি!
বিশ্বকাপে গ্রুপপর্বের তিনটি ম্যাচই ইডেনের মাঠে খেলতো বাংলাদেশ। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে শেষ মুহূর্তে বিশ্বকাপ থেকেই সরে দাঁড়ায় টাইগাররা। বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে আইসিসি। এতে দর্শকদের আগ্রহ ফেরানো তো দূরে থাক, মোট আসনের ১০ শতাংশ টিকিটও বিক্রি করতে পারেনি ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
স্কটল্যান্ড বনাম ইতালি ম্যাচে টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩৪৮টি। এছাড়া উইন্ডিজ-স্কটল্যান্ড ম্যাচে ২৯১৭, ইংল্যান্ড-স্কটল্যান্ড ম্যাচে ২০৭৫ ও উইন্ডিজ-ইতালি ম্যাচে ১২৪৮টি টিকিট বিক্রি হয়েছে।
বাংলাদেশ না থাকায় ইডেনে দর্শকখরার আশঙ্কা ছিল আগেই। শেষ পর্যন্ত সেটাই বাস্তব হলো। পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, বিশ্বকাপের টিকিট বিক্রি কার্যত থমকে গেছে। টিকিট কাউন্টারের সামনে চার-পাঁচ জনের বেশি মানুষ চোখেই পড়ছে না।
ক্রিকইনফোর তথ্য বলছে, ইডেনে দর্শকদের আসন সক্ষমতা ৬৬ হাজার। অথচ পাঁচ ম্যাচ মিলিয়ে এখনো বিক্রি হয়নি ২১ হাজার টিকিটও। এর মধ্যে স্কটল্যান্ড বনাম ইতালি ম্যাচে টিকিট বিক্রি হয়েছে মাত্র ৩৪৮টি। এছাড়া উইন্ডিজ-স্কটল্যান্ড ম্যাচে ২৯১৭, ইংল্যান্ড-স্কটল্যান্ড ম্যাচে ২০৭৫ ও উইন্ডিজ-ইতালি ম্যাচে ১২৪৮টি টিকিট বিক্রি হয়েছে।

গ্রুপপর্বের ছবিটাই এমন হলে নকআউট পর্বেও খুব একটা বদলায়নি পরিস্থিতি। সুপার এইট ও সেমিফাইনাল মিলিয়ে মোট টিকিট বিক্রি হয়েছে প্রায় ৯ হাজার। তাছাড়া গ্রুপপর্বে ইডেনে ভারতের কোনো ম্যাচ না থাকাও আগ্রহ কমার বড় কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। বাংলাদেশ সরে যাওয়ার পর দর্শকদের যে কৌতূহল ছিল, সেটাও যেন মিলিয়ে গেছে।
এদিকে বিশ্বকাপ ঘিরে কলকাতা শহরজুড়ে নেই সেই চেনা উত্তাপ, নেই উৎসবের আমেজ। বরং কলকাতার ক্রিকেট আলোচনায় এখন বিশ্বকাপের চেয়েও বেশি জায়গা দখল করে আছে ঘরোয়া লিগ। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অংশ নিলে নিশ্চয়ই এই ভেন্যুর ভিন্ন রং দেখতে পেত আইসিসি।
এমআই