‘রোজা শক্তি কেড়ে নেয় না, শক্তি দেয়’
খেলা ডেস্ক
২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২২:৫৬
লজ্জা থেকে লড়াই, আর লড়াই থেকে পুনর্জন্ম—এই গল্পটাই যেন লিখছে জিম্বাবুয়ে। গতবার বাছাই পর্ব পেরোতে না পেরে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ মিস করা দলটি এবার বিশ্বমঞ্চে ফিরেই চমক ছড়িয়েছে। শ্রীলঙ্কা ও অস্ট্রেলিয়ার মতো পরাশক্তিকে পেছনে ফেলে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দলটি। আর এই উত্থানের কেন্দ্রে অধিনায়ক সিকান্দার রাজা।
কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১৭৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ব্রায়ান বেনেটের ৪৮ বলে ৬৩ রানের ইনিংসের সঙ্গে রাজা যোগ করেন ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝলমলে ক্যামিও। ৬ উইকেট ও ৩ বল হাতে রেখে জেতে জিম্বাবুয়ে। কিন্তু ইনিংসটির বিশেষত্ব অন্য জায়গায়—রাজা খেলেছেন রোজা রেখেই।
ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিকান্দার রাজা বলেন, ‘আজ (২০ ফেব্রুয়ারি) আমি সেহরি পর্যন্ত জেগে ছিলাম। ঘুমাতে যাইনি, কারণ ভাবছিলাম—যদি রাত একটা-দুটোতে ঘুমাই, তাহলে কি ভোর ৪টা ৩০-এ উঠতে পারব? তাই সেহরি পর্যন্ত জেগে ছিলাম। এরপর দুধ, খেজুর, মধু, অল্প কিছু খাবার আর ফল খেয়েছি।’
রোজাকে নিজের শক্তির উৎস বলেও দাবি করেন সিকান্দার, ‘রোজাই আমাকে সেই শক্তি দেয়। হ্যাঁ, কখনও কখনও একটু কঠিন লাগে, কিন্তু বিশ্বাস করুন—রোজা শক্তি কেড়ে নেয় না, বরং শক্তি জোগায়।’
বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি নিয়েও খোলামেলা ছিলেন রাজা। ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট খেলে হাম্বানটোটা হয়ে কলম্বোতে প্রস্তুতি নিলেও প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ পায়নি দল। তবু যতটা সম্ভব প্রস্তুত হয়েই মাঠে নেমেছে তারা। এই পথচলা সহজ ছিল না। আইসিসির পূর্ণ সদস্য হয়েও সাব-রিজিওনাল আফ্রিকা কোয়ালিফায়ার ‘বি’ খেলতে হয়েছে জিম্বাবুয়েকে।
সেশেলস, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, গাম্বিয়ার মতো দলের বিপক্ষে লড়াই করে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে হয়েছে। কিন্তু হতাশ না হয়ে দায়িত্ব নিয়েছেন রাজা। তিনি আরও বলেন, ‘আমরাই জিম্বাবুয়েকে এই অবস্থায় এনেছি, তাই নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াও আমাদের দায়িত্ব।’
এমআই