সেমিফাইনালের ভেন্যু নিয়ে কেন ভয় পাচ্ছে ভারত?
খেলা ডেস্ক
০৪ মার্চ ২০২৬, ২১:৫৮
আরব সাগরের হাওয়া গ্যালারির উপর দিয়ে বয়ে যায়, সন্ধ্যা নামলে আলোয় ঝলমল করে ওঠে মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে এই মাঠ কেবল একটি ভেন্যু নয়—এ এক আবেগ, এক গৌরব, আবার কখনো তীব্র হতাশার নামও। ২০২৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে তাই স্মৃতিই যেন ভারতের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ।
১৯৮৭: স্বপ্নভঙ্গের সেই শুরু
১৯৮৩ সালে বিশ্বজয়ের পর চার বছর বাদে ঘরের মাঠে শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন দেখেছিল ভারত। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ছিল ইংল্যান্ডই। কিন্তু সেই ম্যাচেই ওয়াংখেড়ে প্রথমবার দেখেছিল স্বাগতিকদের হৃদয়ভাঙা রাত।
গ্রাহাম গুচের লড়াকু সেঞ্চুরিতে চাপে পড়ে ভারত। রান তাড়ায় নেমে সুনীল গাভাস্কারের দ্রুত বিদায় ছিল বড় ধাক্কা। মাঝপথে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা থাকলেও শেষদিকে মাত্র ১৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ৩৫ রানের পরাজয়ে থেমে যায় ভারতের অভিযান। ঘরের মাঠে সেই হারই হয়ে থাকে এক দুঃসহ স্মৃতি।
২০১৬: ১৯২ রানও নিরাপদ নয়
সময় বদলেছে, ফরম্যাট বদলেছে, কিন্তু ওয়াংখেড়ের নাটকীয়তা বদলায়নি। ২০১৬ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও মঞ্চ ছিল এই মাঠ। প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ জাতীয় ক্রিকেট দল।
বিরাট কোহলির ব্যাটে ঝলসে ওঠা ইনিংসে ১৯২ রান তোলে ভারত। গ্যালারিতে তখন উৎসবের আবহ। কিন্তু টি–টোয়েন্টির নির্মমতা বুঝিয়ে দেয় ক্যারিবীয়রা। লেন্ডন সিমন্সের ধৈর্য আর আন্দ্রে রাসেলের ঝড়ে দুই বল বাকি থাকতে জয় তুলে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সেই রাত শিখিয়ে দিয়েছিল—ওয়াংখেড়ে কোনো স্কোরই নিরাপদ নয়।
ইতিহাসের ভার, নাকি নতুন সূচনা?
এবারও সেমিফাইনালের মঞ্চ সেই ওয়াংখেড়ে। ইতিহাস বলছে, এই মাঠে সেমিফাইনাল মানেই ভারতের জন্য দুঃস্বপ্নের ছায়া। প্রশ্ন একটাই—এবার কি অতীতের হিসাব চুকিয়ে নতুন অধ্যায় লিখতে পারবে ভারত, নাকি ওয়াংখেড়ে আবারও হয়ে উঠবে স্বপ্নভঙ্গের আরেক নাম?
এমআই