Advertisement
Us Bangla Airlines
তাসকিন-মোস্তাফিজরা যেভাবে বিশ্বসেরা পেসার হয়ে ওঠলেন

তাসকিন-মোস্তাফিজরা যেভাবে বিশ্বসেরা পেসার হয়ে ওঠলেন

খেলা ডেস্ক

১৮ মার্চ ২০২৬, ১৪:১২

বাংলাদেশের একসময় দুর্বলতার জায়গা ছিল পেস বোলিং, আজ সেই বিভাগই দলের সবচেয়ে বড় শক্তি। আর এই বদলের গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমানরা। যারা ধীরে ধীরে নিজেদের বিশ্বের অন্যতম ভয়ংকর পেস আক্রমণ হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

সবকিছুর মোড় ঘুরতে শুরু করে ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে। তার আগে এই দেশে ১৩টি ওয়ানডে খেলেও একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি বাংলাদেশ। মূল কারণ ছিল দুর্বল পেস আক্রমণ। যেখানে প্রতি ম্যাচে গড়ে ২৩ ওভার বল করে পেয়েছিল মাত্র ৩৭ উইকেট, গড় ছিল ৫৩.৬৭।

২০২২ বাংলাদেশের পেস আক্রমণ বদলের বছর। নিউজিল্যান্ডের মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে এবাদত হোসেনের দুর্দান্ত স্পেল, সঙ্গে শরিফুল ইসলাম ও তাসকিনের পারফরম্যান্স। সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে এনে দেয় ঐতিহাসিক জয়। এরপরই বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ আলোচনায় আসে।

টাইগার পেসারদের হাত ধরে ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে আসে নতুন ইতিহাস। সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে তাসকিনের ৫ উইকেট আর মোস্তাফিজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে ৪৬/০ থেকে ১৫৪ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা। ফলে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় বাংলাদেশ।

সেই সিরিজে ১৪ গড়ে ৮ উইকেট নিয়ে আলো ছড়ান তাসকিন, মোস্তাফিজও ছিলেন মিতব্যয়ী। এই জুটিই হয়ে ওঠে নতুন যুগের প্রতীক। পরিসংখ্যানও বলছে, বদলটা কতটা বড়। ২০২২ সালের আগে যেখানে বাংলাদেশের পেসাররা প্রতি ওয়ানডেতে গড়ে ৩.১৫ উইকেট নিতেন, এখন তা বেড়ে হয়েছে ৩.৮৫। বোলিং গড়ও কমে ৩৬.০৬ থেকে ৩০.৫৭-এ নেমেছে।

বর্তমানে বাংলাদেশের পেস আক্রমণ শুধু অভিজ্ঞতায় নয়, তরুণ শক্তিতেও ভরপুর। তাসকিন-মোস্তাফিজের সঙ্গে যোগ হয়েছেন নাহিদ রানা, হাসান মাহমুদ, তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ ও এবাদত হোসেন। যাদের গতির ঝড় আর ধারাবাহিকতা প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলছে নিয়মিত।

সম্প্রতি পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজেও দাপট দেখিয়েছে টাইগার পেসার। মোস্তাফিজ, নাহিদ ও তাসকিন মিলে তিন ম্যাচে তুলেছেন ১৯ উইকেট, বোলিং গড় ২১.৪২। যা প্রমাণ করে, তারা এখন ম্যাচ জেতানোর ক্ষমতা রাখে। এমনকি অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও স্বীকার করেছেন, এই পেসাররাই এখন দলের সবচেয়ে বড় ভরসা।

সবচেয়ে বড় কথা, এই পেস ইউনিট এখনও তরুণ। তাসকিন-মোস্তাফিজের বয়স ৩১ এর নিচে, আর বাকিরা ২৩-২৬ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ সামনে তাদের সেরা সময়ই অপেক্ষা করছে। প্রোটিয়া সফর থেকে বদলে যাওয়া বাংলাদেশের পেস ইউনিট এখন চমক দেখানোর অপেক্ষায়। কেননা, পরবর্তী বিশ্বকাপ দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত হবে।

এমআই