Advertisement
Us Bangla Airlines
ক্রিকেটারদের স্বার্থরক্ষায় কতটা কার্যকর মিথুনদের কোয়াব?

ক্রিকেটারদের স্বার্থরক্ষায় কতটা কার্যকর মিথুনদের কোয়াব?

ইকবাল আজাদ

৩০ মার্চ ২০২৬, ১৭:৩৯

পেশাদার ক্রিকেটারদের অধিকার ও কল্যাণ রক্ষাকারী একমাত্র সংগঠন কোয়াবের সভাপতি হিসেবে সম্প্রতি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ মিথুন। অতীতে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় থাকলেও সুবিধাজনক পারফর্ম না করতে পারায় যাত্রাটা দীর্ঘায়িত হয়নি। বরং দুর্বল শট সিলেকশন আর আউট হওয়ার ধরনে কটাক্ষের শিকার হয়েছিলেন বেশ। বাজে পারফরম্যান্সে বাদ পড়া ৩৫ বছর বয়সী মিথুনকে এখন আর জাতীয় দলের জন্য বিবেচনা করছেন না নির্বাচকরা। ক্রিকেটার পরিচয়ের পর এবার সংগঠক হিসেবে নতুন পরিচয় পাওয়া মিথুনের পারফরম্যান্স জাতীয় দলের মতোই। বড় পদে আসীন হলেও বলার মতো কোনো কাজ নেই, বরং স্লোয়ার বলে চোখ বন্ধ করে পুল শট খেলতে গিয়ে হয়েছেন ক্লিন বোল্ড।

কোয়াবে মিথুনের পদ নামে ‘নির্বাচিত’ হলেও কাজে পূর্বপরিকল্পিত। তামিমের ছায়ায় সংগঠক হিসেবে আবির্ভাব হওয়া মিথুনের কথার ফুলকিতে রয়েছেন তামিম। অনেকের কাছে কোয়াবের সবশেষ কমিটি গঠন ‘ডামি নির্বাচন’ হিসেবেই বিবেচিত। কারণ, সভাপতি পদ ছাড়া বাকি পদগুলোতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন মিরাজ-শান্তরা। মিথুনের প্রেসিডেন্ট পদটাও অনেকটা অনুমিত ছিল। সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পাওয়া মিথুনকে একাধিকবার তামিম ইস্যুতে কথা বলতে দেখা গেছে। জাতীয় দলের সাবেক ওপেনার তামিমকে নিয়ে করা বিসিবি পরিচালক নাজমুলের মন্তব্য নিশ্চয়ই অগ্রহণযোগ্য। তবে এই ইস্যু ছাড়া কোয়াবের মিথুনকে আর কোনো কিছুতেই ফলপ্রসূ ভূমিকায় দেখা যায়নি।

সন্ধ্যায় বিপিএল ফাইনাল, কোথায়-কীভাবে দেখবেন

কোয়াবের আসল কাজটা কী? কোয়াবের মূল কাজটা হলো— বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও স্বার্থ রক্ষার জন্য কাজ করা। আইপিএল থেকে মোস্তাফিজকে অন্যায়ভাবে বাদ দেওয়া এবং তার পারিশ্রমিক আদায় নিয়ে কাজ করার কথা কোয়াবের। যার মূল ভূমিকায় থাকতেন সভাপতি মোহাম্মদ মিথুন। মোস্তাফিজ ইস্যুতে মিথুন কোয়াব থেকে কোনো উদ্যোগ নিয়েছিলেন কি না, তা নিয়ে স্বচ্ছ তথ্য নেই। এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে কাজ করতে চেয়েছেন বলে মোস্তাফিজের সম্মতি নিয়েছিলেন তিনি। সেই হিসেবে বলা চলে, বিদেশিদের সঙ্গে ক্রিকেটারদের স্বার্থ নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন মিথুন। কিন্তু দেশিদের সঙ্গে তার অবস্থান ব্যর্থতার কঙ্কাল প্রকাশ করে।

বিপিএলের সবশেষ আসরে ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে খেলেছেন মোহাম্মদ মিথুন। দলটির নেতৃত্বেও ছিলেন কোয়াবের বর্তমান সভাপতি। বিপিএলের মাঝপথে তামিম ইস্যুতে কম জলঘোলা করেননি মোহাম্মদ মিথুন। স্থগিত নাটকের পর ক্রিকেটাররা আবার বিপিএলের ম্যাচে ফিরেছিলেন। বিপিএল শেষ হয়েছে গত জানুয়ারিতে। এতদিন পার হলেও দলটি থেকে এখনো পারিশ্রমিকের সব টাকা পাননি ক্রিকেটাররা। কোয়াবের সভাপতি হয়েও নিজের দল থেকে ক্রিকেটারদের অর্থ আদায় করে দিতে পারেননি মিথুন। তামিম ইস্যুতে ধুমধাম সংবাদ সম্মেলনের ডাক দিলেও এই বিষয়ে এখনো নীরব কোয়াব সভাপতি। তাতে প্রশ্ন ওঠে, ক্রিকেটারদের সুরক্ষা ও স্বার্থসিদ্ধির বিষয়ে সত্যিকার অর্থে কোন কাজটা করেছে মিথুনদের কোয়াব।

বিপিএলের মাঝপথে প্রাণ হারিয়েছিলেন ঢাকা ক্যাপিটালসের কোচ মাহবুব আলী জকি। হঠাৎ ইহকাল ত্যাগ করা এই কোচকে নিয়ে শোকে ডুবেছিল ক্রিকেট পাড়া। কোচ জকির মৃত্যুর পরে ঢাকা ক্যাপিটালস নানান সুবিধা দেওয়ার কথা শোনালেও বাস্তবে কোনো কাজই করেনি দলটি। এমনকি প্রয়াত এই কোচের পারিশ্রমিকও ক্রিকেটারদের সঙ্গে এতদিন বকেয়া রেখেছিল ঢাকা ক্যাপিটালস। দলের অধিনায়ক হিসেবে এসব বিষয় নিয়ে কোয়াব সভাপতির অবগত থাকার কথা। না থাকলে তিনি তার পদ অনুযায়ী ব্যর্থতারই পরিচয় দেবেন। কিন্তু অবগত থাকলে কেন এ বিষয়ে কোয়াব থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্নের সম্মুখীন হবেন মিথুন। কারণ, কোচ জকিও প্রাক্তন পেশাদার ক্রিকেটার।

হেলসের ওপর কেন চটেছিলেন তামিম

অবশ্য ক্রিকেটারদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট সংগঠন কোয়াব সভাপতি হয়ে নিজের পারিশ্রমিকই নিশ্চিত করতে পারেননি মিথুন। বিপিএলে তার দলের বাকি ক্রিকেটাররাও অভিভাবক সংগঠন কোয়াবের ব্যর্থতার ভুক্তভোগী। এ বিষয়ে সামাজিকমাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমে নানান আলোচনা হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কাজ করেনি মিথুনের কোয়াব। বিসিবির সঙ্গে এ ইস্যুতে কোয়াব তাল মেলাতে পারলে হয়তো ক্রিকেটাররা এতদিনে পারিশ্রমিক বুঝে পেতেন। শুধু ঢাকা ক্যাপিটালস নয়, নোয়াখালীসহ অন্যান্য দলগুলোও পারিশ্রমিক নিয়ে এতদিন নয়–ছয় করেছে। সেখানে নীরব ভূমিকা ছিল কোয়াবের। তামিম ইকবাল ইস্যুতে জ্বালাময়ী বক্তব্য ছাড়া বাকি বিষয়ে কোয়াবের নীরবতা সংগঠনটির কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

কোয়াবের দ্বিচারিতা এখানেই শেষ নয়। মাসখানেক আগে সংবাদ সম্মেলনে অসম্মানিত হয়েছিলেন সাবেক ক্রিকেটার খালেদ মাসুদ পাইলট। সেখানেও শুরুতে কোনো কথা চড়েনি কোয়াবের। পরে নানান সমালোচনায় পড়ে মোহাম্মদ মিথুনের স্বাক্ষরিত দায়সারা এক বক্তব্য দিয়েছে কোয়াব। তামিম ইস্যুতে জ্বলে ওঠা এবং অন্যদের বেলায় কোনোমতে চালিয়ে দেওয়া কোয়াবের দায়িত্বশীলতায় বিভাজন তৈরি করেছে। বিসিবির নতুন নির্বাচনের আগে আচমকা প্রাণ ফিরে পাওয়া কোয়াব যেন ক্রিকেটার নয়, নির্দিষ্ট গণ্ডির সংগঠন। পাশাপাশি এর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মোহাম্মদ মিথুন যেন প্রতি ফরম্যাটেই ব্যর্থতার পরিচয় বহন করছেন। কাজের চেয়ে বেশি অকাজ করেই আলোচনার জন্ম দিয়েছেন।