Advertisement
Us Bangla Airlines
অনুশীলনে শান্তের ব্যতিক্রমী মাস্ক, কার্যকারিতা শুনলে অবাক হবেন

অনুশীলনে শান্তের ব্যতিক্রমী মাস্ক, কার্যকারিতা শুনলে অবাক হবেন

খেলা ডেস্ক

০১ এপ্রিল ২০২৬, ২১:৫০

মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চলমান ফিটনেস ক্যাম্পে হঠাৎই চোখে পড়ছে এক ভিন্ন দৃশ্য। মুখে বিশেষ ধরনের মাস্ক পরে ঘাম ঝরাচ্ছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও নুরুল হাসান সোহান। ক্রিকেটে নতুন এই ‘স্পোর্টস মাস্ক’ ঘিরে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। কেন এই মাস্কের ব্যবহার, কী এর কাজ?

মূলত সামনে ব্যস্ত সূচি রেখেই ভিন্ন পরিকল্পনা সাজাচ্ছে বিসিবি। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড সিরিজ মাথায় রেখেই ক্রিকেটারদের ফিটনেস বাড়াতে এই অভিনব পদ্ধতির আশ্রয় নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাতেই ক্রিকেটারদের মুখে ওঠেছে নতুন মাস্ক। তবে এটি নিছক বৈচিত্র নয়, বরং বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার অংশ।

বাংলাদেশ দলের স্ট্রেংথ অ্যান্ড কন্ডিশনিং কোচ ইফতেখার রহমান জানিয়েছেন, এই মাস্ক আসলে ‘হাই-অল্টিটিউড’ বা উচ্চতার পরিবেশ অনুকরণ করে। অর্থাৎ, মাস্ক পরে শ্বাস নেওয়া কঠিন হয়ে যায়, যেমনটা পাহাড়ি এলাকায় হয়। এতে শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, ফলে বাড়ে হৃদ্‌যন্ত্রের সক্ষমতা ও সহনশক্তি।

সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, যেসব ক্রিকেটার ইনজুরির কারণে দৌড়াতে পারেন না, তারাও বিকল্প উপায়ে একই ধরনের ফিটনেস ট্রেনিং করতে পারেন। মাস্ক পরে হাঁটলেও শরীর এমনভাবে প্রতিক্রিয়া দেয়, যেন তারা দৌড়াচ্ছেন। অর্থাৎ কম সময়ে বেশি কার্যকর অনুশীলন সম্ভব।

ইফতেখার বলেন, ‘এই মাস্ক হার্টরেট দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। সাধারণত যে পরিশ্রমে শরীরের হার্টরেট ৮৫ শতাংশে পৌঁছাতে সময় লাগে, মাস্ক ব্যবহার করলে কম সময়েই সেই মাত্রায় পৌঁছানো যায়। এতে ফিটনেস উন্নতি, ফ্যাট বার্ন ও স্ট্যামিনা—সবকিছুতেই ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।’

শুরুতে কয়েকজন ক্রিকেটারের জন্য এই মাস্ক ব্যবহার করা হলেও, ইতিমধ্যেই ভালো ফল পেয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন আরও অনেকে। ভবিষ্যতে পুরো দলকেই বিশেষ কন্ডিশনিংয়ের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে টিম ম্যানেজমেন্টের। এই ফিটনেস ক্যাম্প শেষেই কিউই সিরিজ ঘিরে শুরু হবে স্কিল ট্রেনিং।

এমআই