Advertisement
Us Bangla Airlines
বিশ্ব ক্রিকেটে নাহিদ রানাকে নিয়ে এত মাতামাতি কেন

বিশ্ব ক্রিকেটে নাহিদ রানাকে নিয়ে এত মাতামাতি কেন

ইকবাল আজাদ

১০ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৪৯

বিপিএলে গতির ঝড় তুলে শিরোনামে এসেছিলেন নাহিদ রানা। বাংলাদেশের কোনো পেসার অবলীলায় ১৫০ গতিতে বল করবে, এটা ছিল কল্পনার বাইরে। তবে সবাইকে তাক লাগিয়ে দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে নাহিদের আবির্ভাব ঘটে। জোরের ওপর বল করতে পারায় নাহিদের ওপর চোখ ছিল নির্বাচকদের। ঘরোয়া লিগে তার পারফরম্যান্স নিয়ে হতো নানান কাটাছেঁড়া। এরপর বিসিএল, ডিপিএলেও দারুণ পারফর্ম করা শুরু করেছেন। তাতে আলোচনায় আসার বছর দুয়েক পরে তার জাতীয় দলে অভিষেক হয়।

বেশি সময় লাগিয়ে নাহিদকে জাতীয় দলের আনার পেছনের কারণ তার লাইন-লেন্থ। গতিতে ভর করতে গিয়ে লাইন-লেন্থে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারতেন না নাহিদ। অবশ্য বিশ্ব ক্রিকেটে গতি দিয়ে যারা রাজত্ব করেছেন, তাদের অধিকাংশই লাইন-লেন্থের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংগ্রাম করেছেন। নাহিদের ক্ষেত্রেও তাই। জাতীয় দলে অভিষেক হওয়ার পরেও নিজের বলের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি নাহিদ। কিন্তু এর মাঝেই তার তিন ফরম্যাটে অভিষেক ঘটে। পিএসএলের মতো বড় মঞ্চে যাওয়ার সুযোগ হয়।

গেল বছর পিএসএলে খেলতে গেলেও নিরাপত্তা শঙ্কায় আগেভাগেই ফিরতে হয়েছিল। তবে চলতি মৌসুমে দলের তৃতীয় ম্যাচে অভিষেক হয় তার। পিএসএলে নিজের প্রথম ম্যাচে বলার মতো কিছু করতে পারেননি নাহিদ। বল হাতে হয়েছেন খরুচে, নিতে পারেননি কোনো উইকেট। নিচু ও মন্থর পিচ হওয়ায় নিজের সেরা লেন্থে বল করেও হয়েছেন খরুচে। শর্ট লেন্থে করা যে বল বুকের ওপর উঠার কথা, নিচু পিচ হওয়ায় সেটা কোমরের নিচে নেমেছে। ফলে ব্যাটাররা অনায়াসে তাকে চার-ছক্কা হাঁকিয়েছে।

অভিষেকে খরুচে হওয়ার পরেও নাহিদকে আরেকটি সুযোগ দিয়েছে পেশওয়ার জালমি। এই ম্যাচটা হয়েছে বাউন্সিং পিচে। ফলে অনায়াসে ব্যাটে এসেছে বল, রানের ফোয়ারা বইয়েছে জালমির ব্যাটাররা। অন্যদিকে, বাউন্সিং পিচ পেয়েই নিজের সেরা ছন্দ খুঁজে পেয়েছেন নাহিদ। পছন্দের শর্ট লেন্থে বল করে ব্যাটারদের বড় পরীক্ষা নিয়েছেন তিনি। একে তো বাউন্স, তার ওপর গতির ঝড়—বাড়তি উচ্চতায় গতির ঝড় তুলে নাহিদ প্রতিপক্ষের ব্যাটারদের নাকানিচুবানি খাইয়েছেন।

বিশ্ব ক্রিকেটে নাহিদের এত কদরের কারণ এটাই, সুযোগ পেলে প্রতিপক্ষকে একাই ধসিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু মিরপুরের নিচু পিচে নাহিদ থেকে বিশেষ কিছু আশা করা বোকামি। ফলে ভালো পিচ ছাড়া নাহিদকে না খেলানোর পরিকল্পনা করতে পারে। এতে নাহিদ যেমন বিশ্রামের সুযোগ পাবেন, তেমনি অবসরে ভ্যারিয়েশনের ভাণ্ডার করতে পারবেন আরও সমৃদ্ধ। ভারতীয় পেসার জাসপ্রিত বুমরার বেলায় এই নীতিই অনুসরণ করে দলটির ম্যানেজমেন্ট।

ম্যাচ শেষে নাহিদ রানাকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ইংলিশ তারকা মঈন আলী বলেন, ‘এক্সপ্রেস ফাস্ট বোলিং খেলা সবসময়ই কঠিন কাজ, যেকোনো পিচেই। নাহিদ রানা যেই লেন্থে বল করেছে, অনেক ভালো ছিল। এখনকার সময়ে আপনি অনেক বেশি গতিময় বোলারদের মোকাবেলা করবেন না। ফলে সে (নাহিদ রানা) অনেক ভালো বল করেছে, তাকে সামলানো কঠিন ছিল। সে ফুল বা ওয়াইডে খুব বেশি বল দেয়নি। বিপিএলে তার বিরুদ্ধে খেলেছি আমি। সেখানেও দারুণ বল করেছে। এমন পেস থাকা এবং উচ্চতা থাকা দারুণ ব্যাপার।’

বোলিংয়ে নাহিদকেও চতুরতার প্রমাণ দিতে হবে। সব ম্যাচেই তার পছন্দের পিচ মিলবে না। ফলে নিচু পিচে কীভাবে বাউন্স আর গতির মিশেল করা যায়, তা নিয়ে জ্ঞান রাখতে হবে। একইসঙ্গে কোন পিচে কোন লেন্থে বল করতে হবে, তা নিয়ে ধারণা রাখা জরুরি। সাথে লাইনের ওপর দিতে হবে বাড়তি নজর। সবমিলিয়ে জ্ঞানের ভাণ্ডার আরেকটু সমৃদ্ধ করলে যেকোনো প্রতিপক্ষকে একাই ধসিয়ে দিতে পারবেন নাহিদ রানা। তাতে বাকিদের চোখে সম্ভাব্য তারকা নাহিদ একদিন সত্যিকারের ‘সুপার স্টার’ হয়ে ওঠবেন।

এমআই