পিএসএলে ডট বলের ঝলক দেখাল টাইগার পেসাররা
খেলা ডেস্ক
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১৫:০৩
ব্যাটিংবান্ধব উইকেটে বোলারদের সংগ্রামের ঘটনা নিয়মিত বিষয়। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) স্পোর্টিং পিচে এই ঘটনার দেখা মেলে অহরহ। ভালো লেন্থে বল করেও কেবল পিচের কারণে বোলাররা নাম লেখান খরুচের তালিকায়। চলমান পিএসএলেও একই কাণ্ডের দেখা মিলেছে বহুবার। ভালো জায়গায় বল করেও বোলাররা খরুচে হয়েছেন বারবার। তবে এখানে ব্যতিক্রম বাংলাদেশ তিন পেসার। খরুচের পরিবর্তে হয়েছেন মিতব্যয়ী, করেছেন নিয়মিত ডট বল।
পিএসএলের উদ্বোধনী ম্যাচেই খেলেছিলেন বাংলাদেশের পেস ইউনিটের নেতা মোস্তাফিজুর রহমান। হায়দরাবাদ কিংসম্যানের বিপক্ষে সেই ম্যাচে ১৯ রান খরচায় নিয়েছেন এক উইকেট। আট বছর পর পিএসএলে ফিরে ৯ ডট বল দিয়ে যাত্রা শুরু করেছেন কাটার মাস্টার। লাহোর কালান্দার্সের জার্সিতে এরপর আরও চার ম্যাচ খেলেছেন মোস্তাফিজ। প্রতি ম্যাচেই রেখেছেন ডট বলের ঝলক। পাঁচ ম্যাচে মোট ১০২ বল করেছেন ফিজ, যেখানে ডট বল ৩০টি বা ২৯ শতাংশ।
পেশওয়ারের জার্সিতে প্রথম ম্যাচেই অভিষেক হয়েছে শরিফুল ইসলামের। বাঁহাতি এই পেসার টুর্নামেন্টের শুরু থেকেই মজেছেন সুইংয়ের খেলায়। রাওয়ালপিণ্ডির বিপক্ষে অভিষেক ম্যাচেই সুইংয়ের দক্ষতায় করেছেন ১১ ডট বল। উইকেট না পেলেও সেই ম্যাচের সবচেয়ে কিপটে পেসার ছিলেন তিনি। বাবরদের সঙ্গে অভিষেক আসরে মোট পাঁচ ম্যাচ খেলেছেন শরিফুল, করেছেন মোট ৯০ বল। এসব বলের মধ্যে ৩৯টি বা ৪৩ শতাংশ ডট বল করেছেন এই টাইগার পেসার।
পিএসএলে শুরুর দিকে ম্যাচ পাননি নাহিদ রানা। পেশওয়ারের তৃতীয় ম্যাচেই অভিষেক হয় তার। স্পিড স্টারের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি। দলের বাকি বোলারদের উজ্জ্বলতার দিনে তিন ওভারে ৩০ রান ব্যয় করে মলিনই ছিলেন নাহিদ। তবে পরের ম্যাচেই ইতিহাস গড়ে বসেন এই পেসার। চার ওভারে ৭ রান খরচায় নিয়েছেন ৩ উইকেট, যেখানে পিএসএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ডট বল করেছেন তিনি। সবমিলিয়ে চার ম্যাচে করা ৮৪ বলের মধ্যে ৪৮টি বা ৫৭ শতাংশ ডট বল করেছেন নাহিদ রানা।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ডট বলের রাজা হিসেবে সম্প্রতি নাম লিখিয়েছেন মোস্তাফিজুর রহমান। চলমান পিএসএলের মাঝেই স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৩০০০ ডট বল করার নতুন মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি। মোস্তাফিজের ডট বলের রাজত্বের মাঝে যেন নতুন কাণ্ডারি হয়ে ওঠছেন নাহিদ-শরিফুল। পিএসএলে মোস্তাফিজ থেকে কম বল করেও বেশি ডট দিয়েছেন এই দুই পেসার। সতীর্থদের এমন উন্নতি দেখে খুশি হবেন স্বয়ং মোস্তাফিজও, আর মাঠে ধারাবাহিকতা ধরে রাখলে লাভবান হবে পুরো বাংলাদেশ।
এমআই