Advertisement
Us Bangla Airlines
তবুও ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলছেন না মিরাজ!

তবুও ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে কথা বলছেন না মিরাজ!

খেলা ডেস্ক

১৭ এপ্রিল ২০২৬, ২২:৫৫

নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রথম ম্যাচটা যেন আয়না ধরল বাংলাদেশের সামনে। আর সেই আয়নায় সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে উঠল অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের পারফরম্যান্স এবং তার মানসিকতা। অলরাউন্ডার তকমা পাওয়া মিরাজ যেন ধীরে ধীরে ব্যাটিংটাই ভুলে যাচ্ছেন। নেতৃত্বের চাপ কি তাকে গ্রাস করেছে, প্রশ্নটা উঠছেই। কারণ অধিনায়ক হওয়ার পর তার মুখে আগের সেই চেনা আত্মবিশ্বাস আর প্রফুল্লতা চোখে পড়ে না। বোলিংয়ে নির্ভরযোগ্যতা পিচনির্ভর, আর ব্যাট হাতে ধার যেন ক্রমেই ভোঁতা। এক সময়ের হিরো মিরাজ যেন আচমকাই হয়ে উঠছেন জিরো।

এই ম্যাচেও তার প্রতিচ্ছবি ছিল স্পষ্ট। যখন তিনি ক্রিজে নামেন, বাংলাদেশের জয়ের জন্য দরকার ৫৭ বলে ৬৪ রান। ওয়ানডে ক্রিকেটে যা অসম্ভব নয়, বরং সেট ব্যাটার থাকলে বেশ অর্জনযোগ্যই। কিন্তু সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে ম্যাচের গতি বাড়ানোর বদলে থামিয়ে দেন নিজেই। ক্রিজে এসেই তিনটি ডট বল খেলেন। এরপর কিউই স্পিনার লিনেক্সের বিপক্ষে আরও চারটি টানা ডট। জয়ের সমীকরণ যেখানে বাউন্ডারি দাবি করে, সেখানে অধিনায়কের ব্যাট থেকে আসে শুধু রক্ষণাত্মক শট। এই সাতটি ডট বলই নিঃশব্দে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

চাপ বাড়তে থাকলে যা হয়, সেটাই হলো। রান তোলার তাড়নায় খেলতে গেলেন অপরিণত শট, যেখানে ছিল না আত্মবিশ্বাস বা নিয়ন্ত্রণ। ফলাফল, গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ভেঙে গেল বাংলাদেশের শেষ ভরসার জুটি। বোলিংয়ে তেমন প্রভাব রাখতে না পারা মিরাজ ব্যাট হাতেও ব্যর্থ। কিন্তু ম্যাচ শেষে নিজের পারফরম্যান্স নয়, তিনি আঙুল তুললেন ফিল্ডিংয়ের দিকে। দাবি করলেন, দুটি ক্যাচ নিলে লক্ষ্য ২০০ রানের নিচে নামতে পারত।

প্রশ্ন হচ্ছে, ডটের পর ডট খেলে ম্যাচের গতি নষ্ট করার দায়টা তাহলে কার? সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সাতটি টানা ডট যে ম্যাচ হারানোর সমান, সেটি কি স্বীকার করা উচিত নয়? অধিনায়কের কাছ থেকে এই আত্মসমালোচনাই প্রত্যাশিত। কিন্তু ম্যাচ শেষে মিরাজ বলেন, ‘আমরা যদি দুইটা ক্যাচ নিতে পারতাম, তাহলে নিশ্চিতভাবেই ওদের ২০০ রানের নিচে আটকে রাখতে পারতাম। এটা আমাদের দলের একটা ভুল ছিল।’

মিরাজ এক সময় ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে খেলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় কম্বিনেশনের কারণে এখন তিনি সাত নম্বরে। এই পজিশন সাধারণত পাওয়ার হিটারদের জন্য, যারা শেষদিকে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। অথচ মিরাজের পুরো ক্যারিয়ারেই সেই পাওয়ার হিটিংয়ের ছাপ নেই বললেই চলে। ফলে এই ভূমিকায় তাকে কার্যকর ভাবা কঠিন।

শুধু মিরাজ নন, পুরো মিডল অর্ডারেই ছিল ডট বলের মহড়া। সাইফ হাসান শুরুতে ধীর ছিলেন, যদিও পরে তা পুষিয়ে দেন। কিন্তু আফিফ হোসেন যেন ওয়ানডেকে বানিয়ে ফেললেন টেস্ট ম্যাচ। ৪৯ বলে ২৭ রান, তাও একটিও বাউন্ডারি ছাড়া। তার বিদায়ের পর ডটের চক্রে আটকে যান মিরাজ, যোগ দেন রিশাদও। মিরপুরের উইকেট এতটা কঠিন ছিল না যে সেখানে রান তুলতে হিমশিম খেতে হবে। লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটিংই তার প্রমাণ। ২৪৮ রানের লক্ষ্য নাগালের মধ্যেই ছিল।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, বাংলাদেশ নিজেরাই ম্যাচটা কঠিন বানিয়েছে। হাতের নাগালে থাকা জয় পায়ে ঠেলে দিয়েছে। সবচেয়ে হতাশার জায়গা, ম্যাচ শেষে দায় স্বীকার না করে অন্য খাতে দোষ চাপানোর প্রবণতা। ২৫০ রানের লক্ষ্য যদি আতঙ্ক তৈরি করে, তাহলে সামনে বড় মঞ্চে বিশ্বকাপে কী অপেক্ষা করছে, তা অনুমান করা কঠিন নয়।

এমআই