Advertisement
Us Bangla Airlines
মিরাজের কথা রাখলেন বোলাররা, ব্যাটিংয়ে প্রশ্নের পাহাড়

মিরাজের কথা রাখলেন বোলাররা, ব্যাটিংয়ে প্রশ্নের পাহাড়

খেলা ডেস্ক

২০ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:২৯

ডট বলের চাপে ভেঙে পড়া এক ইনিংস, আর তার পরেও ব্যাখ্যার ভিন্ন সুর। প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে তাল খুঁজে না পাওয়া অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ নিজের ব্যর্থতার দায় না নিয়ে আঙুল তুলেছিলেন ফিল্ডিংয়ের দিকে। তার যুক্তি ছিল, দুটি ক্যাচ নিতে পারলে নিউজিল্যান্ডকে ২০০ রানের আগেই থামানো যেত, আর তাতেই নিশ্চিত হতো জয়।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে অন্য জায়গায়। চাপের মুহূর্তে মিরাজের ডট বল খেলা, তার আগেই আফিফ হোসেন ও সাইফ হাসানের ধীরগতির ব্যাটিং—এসব কি ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারানোর বড় কারণ নয়? গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রানের চাকা থেমে যাওয়াই যে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছে, সেটি যেন আলোচনার বাইরে রয়ে গেছে।

বিশ্ব ক্রিকেটের বর্তমান বাস্তবতা ভিন্ন ছবি দেখাচ্ছে। ওয়ানডেতে ৩৫০ রান এখন আর বিরল নয়, বরং নিয়মিত দৃশ্য। ৩৫০ থেকে ৪০০ রানের লক্ষ্যও তাড়া করে জিতে যাচ্ছে দলগুলো। সেই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের লক্ষ্য যদি ২০০ বা তার কম রানেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তা মানসিকতার প্রশ্ন তোলে। আধুনিক ক্রিকেটের গতির সঙ্গে এই ভাবনার ফারাক স্পষ্ট।

দলীয় ব্যবস্থাপনা থেকেও এ নিয়ে কোনো দৃশ্যমান আপত্তি আসেনি। দ্বিতীয় ম্যাচের আগেও একই বক্তব্যে অনড় ছিলেন মিরাজ। তার বিশ্বাস, প্রতিপক্ষকে কম রানে আটকে রাখতে পারলেই জয় সম্ভব। বোলাররা সেই সামর্থ্য রাখে, কিন্তু ব্যাটিং ইউনিট সেই লক্ষ্য তাড়া করতে কতটা প্রস্তুত, সেটিই বড় প্রশ্ন হয়ে আছে।

সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচে অবশ্য অধিনায়কের কথার প্রতিফলন দেখা গেছে বোলিংয়ে। নাহিদ রানা ও শরিফুল ইসলামের দারুণ পারফরম্যান্সে ১৯৮ রানে থেমেছে নিউজিল্যান্ড। নাহিদের পাঁচ উইকেটের সঙ্গে রিশাদ হোসেনের সহায়তা মিলিয়ে কাজটা সহজ করে দিয়েছেন বোলাররা।

এখন সামনে ১৯৯ রানের লক্ষ্য। পরিস্থিতি মিরাজের পরিকল্পনার সঙ্গে মিলে গেছে। এই রান তাড়া করে জিততে পারলে স্বস্তির হাসি ফুটবে অধিনায়কের মুখে, শোনা যাবে আত্মবিশ্বাসের গল্পও। তবে প্রশ্নটা থেকেই যায়, বড় লক্ষ্য তাড়া করার মানসিকতা কবে গড়ে উঠবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে?

এমআই