Advertisement
Us Bangla Airlines
বড় লক্ষ্য মানেই চাপ, তানজিদের ব্যাটে স্পষ্ট সেই প্রভাব

বড় লক্ষ্য মানেই চাপ, তানজিদের ব্যাটে স্পষ্ট সেই প্রভাব

খেলা ডেস্ক

২০ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৬

পরিসংখ্যান কখনও কখনও গল্পের চেয়েও বেশি কিছু বলে। তানজিদ হাসান তামিমের ব্যাটিং নিয়েও ঠিক তেমনই এক প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে বারবার হোঁচট, আর তুলনামূলক ছোট লক্ষ্য পেলে আত্মবিশ্বাসী রূপ। নিউজিল্যান্ড সিরিজে যেন আবারও স্পষ্ট হলো সেই ধারা।

সিরিজের প্রথম ম্যাচেই ধরা পড়েছে চিত্রটা। ২৪৮ রানের লক্ষ্য, মিরপুরের কঠিন উইকেটে যা অনেকটাই ৩৫০ রানের সমতুল্য। এমন ম্যাচে ওপেনারদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু তানজিদ থেমে যান মাত্র ২ রানে।

এটা একদিনের গল্প নয়। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৭৫ রান তাড়ার ম্যাচে তার সংগ্রহ ছিল ১ রান। গত বছর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৮৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় করেন ১৭। একই বছরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ডাকও মেরেছেন তিনি।

অন্যদিকে চিত্রটা ভিন্ন হয়ে যায় ছোট লক্ষ্য সামনে এলে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ছয়টি ফিফটির মধ্যে চারটিই এসেছে রান তাড়ায়, যার বেশিরভাগই তুলনামূলক কম লক্ষ্য। ২০২৪ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ২৩৬ রানের লক্ষ্য তাড়ায় করেছিলেন ৮৪ রান। চলতি বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে ১১৫ রান তাড়ায়ও পেয়েছেন ফিফটি।

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে লক্ষ্য ছিল ২০০ এর নিচে। সেই ম্যাচেই আবার চেনা ছন্দে তানজিদ। ৫৮ বলে ৭৬ রানের দারুণ ইনিংসে জয়ের ভিত গড়ে দেন এই ওপেনার। এখন প্রশ্নটা স্পষ্ট। লক্ষ্য ছোট হলেই কি স্বস্তিতে খেলতে পারেন তানজিদ? নাকি বড় লক্ষ্য সামনে এলেই বাড়তি চাপ গ্রাস করে তাকে?

ক্যারিয়ারের একমাত্র শতক এসেছে প্রথম ইনিংসে ব্যাট করে। আরও দুটি ফিফটিও এসেছে একইভাবে। সামর্থ্যের বিচারে বড় মাপের ব্যাটার হওয়ার সব উপাদানই আছে তার মধ্যে। তবে চাপের মুহূর্তে বড় ইনিংস খেলতে না পারলে সেই সম্ভাবনা পূর্ণতা পায় না।

তানজিদের সামনে তাই চ্যালেঞ্জ একটাই—সংখ্যার এই বৈপরীত্য ভেঙে বড় লক্ষ্যেও নিজেকে প্রমাণ করা। নয়তো প্রতিবারই একই প্রশ্ন ফিরে আসবে, লক্ষ্য বড় হলেই কি হারিয়ে যায় তার আত্মবিশ্বাস?

এমআই