নাহিদ যেদিন খেলেন, সেদিন তাকিয়ে থাকে সবাই
ইকবাল আজাদ
২১ এপ্রিল ২০২৬, ২০:০৫
ঢাকার আকাশ তখন যেন আগুন ঢেলে দিচ্ছিল মাটিতে। তপ্ত রোদে ঝলসে ওঠা মিরপুরে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নামতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। সময় যত গড়িয়েছে, ততই বেড়েছে গরমের তীব্রতা। জনজীবন ক্লান্ত, আর বাইশ গজে ক্রিকেটাররাও যেন হাঁপিয়ে উঠছিলেন সেই তাপে। কিন্তু এমন দমবন্ধ করা পরিবেশেও মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন নাহিদ রানা।
নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন আর শৃঙ্খল খাদ্যাভ্যাসে গড়া এই পেসারকে ঢাকার আর্দ্রতা কাবু করতে পারেনি। বরং কাঠফাটা রোদে যেখানে অন্যরা ক্লান্তির ভারে নুয়ে পড়ছিলেন, সেখানে বল হাতে তিনি ছড়াচ্ছিলেন আগুন। একটানা গতির ঝড়, দশ ওভারের মধ্যে ৫৯টি বল ১৪০ কিমি গতির ওপরে। এমন ধারাবাহিক গতির নজির খুব কম বোলারেরই আছে।
শুরুটা হয়েছিল ১৪৪ কিমি গতির দমকা ডেলিভারিতে। ফুলার লেন্থে সুইং করা সেই বলেই নিকোলস এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন। পরের ওভারে গতি আর বাউন্সের মিশেলে অবাক করেন উইল ইয়াংকে। এরপর মোহাম্মদ আব্বাসকে টানা বাউন্সারে চাপে ফেলে তুলে নেন উইকেট। ততক্ষণে গ্যালারিতে শুরু হয় উৎসবের আমেজ।
নাহিদের বাউন্সার খেলাটা যেন আলাদা এক চ্যালেঞ্জ। আব্বাসের পর একই ভুল করেন ফক্সক্রফটও। শর্ট বলে পুল খেলতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। মিড উইকেটে সেটা তালুবন্দী করেন হৃদয়। শেষ উইকেটটি আসে ইয়র্কারে। ১৪৪ কিমি গতিতে বোলিং শুরু করা নাহিদ শেষ ডেলিভারিটিও করেন ১৪৫ কিমি গতির নিখুঁত ইয়র্কার।

ম্যাচজুড়ে ভিন্ন তিন ওভারের প্রথম বলেই তুলে নেন উইকেট। পাঁচ উইকেটের দিনে তার বোলিং ছিল বৈচিত্র্যে ভরা। ৪৩টি ডট বল, সঙ্গে অবিরাম গতি—প্রতিপক্ষ শিবিরে ততক্ষণে তৈরি হয় আতঙ্ক আর অস্বস্তি। নাহিদ বল হাতে এলেই যেন প্রাণ ফিরে পায় বাংলাদেশ, গ্যালারিতে শুরু হয় উচ্ছ্বাস। ডাগআউট জমে হাততালির কলরবে।
দশ ম্যাচে এটি তার দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট। রেকর্ডবুকে লিখিয়েছেন নিজের নাম। শুধু গতি নয়, সাফল্যেও যে বাকিদের চেয়ে কোনো অংশে কম নন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচে যেন আবারও প্রমাণ করলেন, গ্যালারি থেকে শুরু করে বিশ্লেষক, সবার মনে অনুভূতির জন্ম দিলেন—নাহিদ যেদিন খেলেন, সেদিন অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকে সবাই।
প্রথম ম্যাচে কেন তিনি ছিলেন নিষ্প্রভ? উত্তর লুকিয়ে ছিল পিচে। আগের উইকেট ছিল মন্থর ও নিচু বাউন্সের, যেখানে গতি তেমন কাজে আসেনি। কিন্তু এবার বাউন্স আর সুইং মিলে নাহিদের হাতে যেন এসে যায় নিখুঁত অস্ত্র। সুযোগ পেয়েই তিনি দেখালেন, উপযোগী কন্ডিশনে তিনি কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারেন।
এমআই