লিটনের ফিফটি, শান্তর সেঞ্চুরি—তবুও আফসোসটা রয়ে গেল
খেলা ডেস্ক
২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:২৮
৪০ ওভার শেষে স্কোরবোর্ডে ২০০ পেরোনো রান, হাতে তখনো ৬ উইকেট। ক্রিজে সেট নাজমুল হোসেন শান্ত, সঙ্গে সিরিজজুড়ে ধারাবাহিক তাওহীদ হৃদয়। এমন সমীকরণে ৩০০ ছোঁয়া যেন সময়ের অপেক্ষা—এটাই ছিল স্বাভাবিক প্রত্যাশা। কিন্তু ক্রিকেট তো সবসময় সমীকরণ মানে না। শেষ পর্যন্ত সেই সম্ভাবনা রয়ে গেল অপূর্ণ, আর তাতেই জমেছে আক্ষেপ।
শুরুর ধাক্কা সামলে ইনিংস গড়ে তোলেন শান্ত ও লিটন কুমার দাস। লিটনের ফিফটি আর শান্তর সেঞ্চুরিতে ভর করে বাংলাদেশ পৌঁছে যায় লড়াইয়ের ভিত গড়ার জায়গায়। কিন্তু শেষ ১০ ওভারে যেন থমকে যায় গতি। যে জায়গা থেকে রান তোলার কথা ঝড়ের গতিতে, সেখানে দেখা গেল ধীর গতির ব্যাটিং। এতে সংগ্রহটা বড় হয়নি বাংলাদেশের।
দলের ভারসাম্য নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়। সাত নম্বরে নামা মেহেদী হাসান মিরাজকে ভাবা হয় স্লগ ওভারের ব্যাটার হিসেবে, অথচ তার ব্যাটিংয়ে পাওয়ার হিটিংয়ের উপস্থিতি খুবই সীমিত। শেষ দিকে তিনি ১৮ বলে ২২ রান করেন ঠিকই, তবে ম্যাচের প্রেক্ষাপটে সেটি যথেষ্ট ছিল না।
অন্য প্রান্তে প্রত্যাশা ছিল হৃদয়ের কাছেও। সিরিজে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স তাকে দিয়েছিল বাড়তি আস্থা। কিন্তু ২৯ বলে অপরাজিত ৩৩ রানের ইনিংসটি আক্রমণাত্মক মোড় নিতে পারেনি। বরং শেষ দিকে স্ট্রাইক রোটেশনে কিছুটা গড়িমসি, বোলারদের বেশি বল খেলার সুযোগ দিয়ে সম্ভাব্য রানের গতি কমিয়েছেন।
শান্ত অবশ্য নিজের কাজটা করে গেছেন নিখুঁতভাবে। কঠিন সময়ে ইনিংসকে টেনে তুলেছেন, এনে দিয়েছেন তিন অঙ্কের মাইলফলক। সেঞ্চুরির পর গতি বাড়াতে গিয়ে আউট হওয়াটা স্বাভাবিক ক্রিকেটীয় ঝুঁকি। কিন্তু তার পরের ব্যাটারদের কাছ থেকে সেই গতি আর দেখা যায়নি।
শেষ ১০ ওভারে আসে মাত্র ৬১ রান। হাতে ৬ উইকেট রেখে এমন ধীরগতি, আধুনিক ওয়ানডে ক্রিকেটে যা স্পষ্টই পিছিয়ে পড়ার ইঙ্গিত। যেখানে অন্য দলগুলো এই সময়টাকে বানায় ‘রান বৃষ্টির’ মঞ্চ, সেখানে বাংলাদেশ আটকে যায় পরিকল্পনা আর প্রয়োগের ফাঁকে।
সব মিলিয়ে ৪০ ওভারে ২০৪ থেকে ৫০ ওভারে ২৬৫—সংখ্যাটা খারাপ নয়, কিন্তু সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। ম্যাচের ফল যাই হোক, এই ইনিংস রেখে গেল একটাই প্রশ্ন। আরও কিছু রান কি যোগ করা যেত না? আর সেই না-পারা থেকেই জন্ম নেয় বড় আফসোস আর স্পষ্ট হয় দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোর দুর্বলতা।
এমআই