রিপনের অভিষেক: শেখা থেকে সামলে ওঠার লড়াই
খেলা ডেস্ক
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৭:১৮
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম পদক্ষেপটা সবসময়ই কঠিন। সেই কঠিন বাস্তবতার ভেতর দিয়েই হাঁটলেন বাংলাদেশের অভিষিক্ত পেসার রিপন মন্ডল। শুরুটা ছিল ভুলে ভরা, শেষটা কিছুটা নিয়ন্ত্রণের ইঙ্গিত দিয়ে। তাতে সিনিয়র জাতীয় দলের ‘অভিষেক’ ম্যাচে রিপন নিজের বোলিং থেকে শিখেছেন, রান নিয়ন্ত্রণেও সামলে ওঠেছেন।
ক্রিকেটের সবচেয়ে নির্মম দিকটা হলো এখানে সামান্য ভুলও হয়ে ওঠে বড় শাস্তি। লাইন-লেন্থের সামান্য এদিক-ওদিক মানেই রান গড়িয়ে যাওয়া, আর হাফভলি মানেই বাউন্ডারির শাস্তি। এই বাস্তবতা রিপন প্রথম ম্যাচেই টের পান হাড়ে হাড়ে।
শুরুর দিকটা ছিল কঠিন পরীক্ষার মতো। ব্যক্তিগত প্রথম ওভারের দ্বিতীয় বলেই হাফভলি দেন রিপন, আর ফিফথ স্টাম্পের সেই ডেলিভারিকে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠান ক্লেভার। পরের ওভারে কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফিরলেও শেষ বলে আবার চার হজম করতে হয় তাকে।
তবে তৃতীয় ওভারেই বাস্তবতার সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে। লেন্থ ঠিক রাখতে না পারায় প্রথম দুই বলেই ওভারপিচড ডেলিভারি থেকে বাউন্ডারি, তৃতীয় বলেই ফুল লেন্থে ছক্কা। ঠিক তখনই আলোকস্বল্পতায় খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
খেলা ফেরার পরও স্বস্তি মেলেনি। ফুল লেন্থে করা বলও সীমানা পেরিয়ে যায়। শুরুর তিন ওভারে পরিকল্পনা কার্যকর হয়নি, দেখা যায়নি নিয়ন্ত্রণ। কিন্তু শেষ ওভারেই বদলে যান রিপন। স্লোয়ার, ইয়ার্কার, লো ফুলটস—সব অস্ত্র ব্যবহার করে তিনি আটকে দেন রান তাড়া করা কিউইদের।
শেষ ওভারে মাত্র ৬ রান দেয়ায় ম্যাচে কিছুটা হলেও স্বস্তির ছাপ রেখে যান তিনি। সব মিলিয়ে চার ওভারে ৩৯ রান দিয়ে উইকেটশূন্য থাকলেও গল্পটা শুধু পরিসংখ্যানের নয়। প্রথম তিন ওভার ছিল শেখার, শেষ ওভার ছিল সামলে ওঠার ইঙ্গিত। সেই কারণেই অভিষেকটা রিপনের জন্য লড়াইয়ের গল্প হয়ে থাকল।
এমআই