নাহিদকে উন্মুখ হয়ে দলে ফেরানোর তিন কারণ
খেলা ডেস্ক
০১ মে ২০২৬, ১৭:৫৬
গতি, সম্ভাবনা আর সময়োপযোগী পারফরম্যান্সের মিশেলে আলোচনার কেন্দ্রে এখন নাহিদ রানা। পাকিস্তান সুপার লিগে গত বছর স্কোয়াডে থাকলেও অভিষেক হয়নি, এবার সুযোগ পেয়ে শুরুটা করেছিলেন খরুচে বোলিং দিয়ে। কিন্তু পরের তিন ম্যাচেই পাল্টে গেছে দৃশ্যপট। সেই পারফরম্যান্সেই পেশওয়ার জালমি তাকে ফিরিয়ে এনেছে ফাইনাল দলে।
শুধু পারফরম্যান্স নয়, নাহিদকে ফেরানোর পেছনে রয়েছে তিনটি বড় কারণ। এসব কারণেই দৃশ্যত বিসিবির কাছে অনুরোধ করে নাহিদকে এক ম্যাচের জন্য নিয়েছে তারা। এর পেছনে ফাইনালে ওঠা পেশওয়ার জালমির দুর্বলতাও স্পষ্ট। তবে তিন কারণে নাহিদ দলে পেতে এত উন্মুখ হয়েছিল পেশওয়ার জালমির কর্তৃপক্ষ।
প্রথমত, সঠিক পেস কম্বিনেশনের অভাব। নিলাম ও সরাসরি চুক্তিতে অনেক পেসার দলে এলেও ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেননি বেশিরভাগই। এর মধ্যে উজ্জ্বল ছিলেন নাহিদ ও শরিফুল ইসলাম। ফলে আক্রমণে ধার আনতে নাহিদকে ফাইনাল ম্যাচে ফেরাতে এত তোড়জোড় করেছে পেশওয়ার।
দ্বিতীয়ত, দলে প্রকৃত গতির ঘাটতি। বাবর আজমের দলে পেসার থাকলেও ভয় ধরানো ফাস্ট বোলার কম। তরুণ আলী রাজা গতি তুলতে পারলেও লেন্থ ধরে রাখতে পারেন না। চাপ বাড়লে রানও দেন বেশি। এই জায়গায় এগিয়ে নাহিদ। গতি ও নিয়ন্ত্রণ দুইই আছে তার বোলিংয়ে। আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা তাকে আরও শানিত করেছে।
তৃতীয়ত, ভেন্যুর চরিত্র। ফাইনাল হবে গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে, যেখানে ব্যাটিং সহায়ক উইকেট হলেও গতিময় বোলাররা সফল হন। এই মাঠে দাপট দেখিয়েছেন শাহিন আফ্রিদি ও হারিস রউফ। বাউন্স ও গতির সমন্বয়ে ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়া যায় এখানে। নাহিদের ১৫০ কিমি গতির বাউন্সার ব্যাটারদের পুল শটে ভুল করাতে পারে, যা তার বড় শক্তি।
দলের দুর্বলতাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ। বড় স্কোয়াড থাকা সত্ত্বেও মানসম্মত পেস আক্রমণ গড়ে উঠেনি। শাহনেওয়াজ দাহানি কিংবা অন্যদের মধ্যে ধারাবাহিকতার ঘাটতি আছে। নির্ভরযোগ্য অপশন হিসেবে আছেন মোহাম্মদ বাসিত। তাই নাহিদকে ঘিরেই নতুন করে পেস ইউনিট সাজানোর পরিকল্পনা।
ফাইনালে নাহিদের সঙ্গে পেস আক্রমণে থাকবে অজি অলরাউন্ডার অ্যারন হার্ডি ও মোহাম্মদ বাসিত। তবে পেশওয়ার জালমির পেস আক্রমণের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন কেবলই নাহিদ রানা। ফাইনালের মঞ্চে তার গতি কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই দেখার অপেক্ষা।
এমআই