Advertisement
Us Bangla Airlines
বিপিএলে ফিক্সিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত ক্রিকেটারসহ ৫ জন

বিপিএলে ফিক্সিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত ক্রিকেটারসহ ৫ জন

খেলা ডেস্ক

০৭ মে ২০২৬, ১৯:১৬

বহুল আলোচিত ২০২৫ সালের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) ফিক্সিং ও বেটিং কাণ্ডের তদন্ত শেষ করে অবশেষে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ক্রিকেটার, টিম কর্মকর্তা ও ফ্র্যাঞ্চাইজি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিসহ মোট পাঁচজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, বিপিএলের ১২তম আসরকে ঘিরে বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটের তদন্তে দুর্নীতি, বেটিং, তদন্তে অসহযোগিতা এবং প্রমাণ গোপনের অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। এর ভিত্তিতেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের দুর্নীতি দমন বিধিমালার বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই ঘটনায় শাস্তি পাওয়া একমাত্র ক্রিকেটার হলেন ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার। তার বিরুদ্ধে ক্রিকেট ম্যাচের ফলাফল বা বিভিন্ন পরিস্থিতি নিয়ে বাজিতে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এ ছাড়া টিম ম্যানেজার মো. লাবলুর রহমান এবং ফ্র্যাঞ্চাইজির সহ-মালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদের বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতা না করা, তথ্য গোপন করা এবং তদন্ত কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ এনেছে বিসিবি। আরেক টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর বিরুদ্ধেও ম্যাচ-সংক্রান্ত বেটিং কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

অভিযুক্ত সবাইকে আপাতত সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অভিযোগের জবাব দিতে তাদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিসিবি। তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে আপাতত আর কোনো মন্তব্য করতে চায় না দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

এদিকে বিপিএলের আরও কয়েকটি আসর ঘিরেও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে এসেছে। বিপিএলের নবম, দশম ও একাদশ আসরে অনিয়মে জড়িত থাকার অভিযোগে সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিসিবির ‘বহিষ্কৃত ব্যক্তি নীতিমালা’র আওতায় বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে।

বিসিবির তদন্তে উঠে এসেছে, তিনি জুয়া ও বেটিং-সংক্রান্ত কার্যক্রম, খেলোয়াড় ও এজেন্টদের দুর্নীতির প্রস্তাব দেওয়া এবং দেশি-বিদেশি বেটিং সিন্ডিকেটের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার মাধ্যমে ম্যাচ-সংশ্লিষ্ট দুর্নীতিতে সম্পৃক্ত ছিলেন। নোটিশ পাওয়ার পর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না নিয়ে তিনি বহিষ্কারাদেশ মেনে নিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের বিপিএল চলাকালেই ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। পরে তৎকালীন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন তদন্ত কমিটি গঠন করেন। দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে বিসিবির কাছে প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে।

এমআই