Advertisement
Us Bangla Airlines
মিরপুরের সবুজ পিচে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

মিরপুরের সবুজ পিচে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ

খেলা ডেস্ক

০৮ মে ২০২৬, ২১:০৯

“মর্নিং শোজ দ্য ডে”—মিরপুরে বাংলাদেশের শুরুটা যেন সেই প্রবাদকেই সত্যি করে তুলেছিল। ইনিংসের প্রথম বলেই মাহমুদুল হাসান জয়ের দৃষ্টিনন্দন ফ্লিক শট থেকে আসে চার রান, পরের বলেই লেগ বাই থেকে আরও চার। টানা দুই বাউন্ডারিতে আত্মবিশ্বাসী সূচনা পায় টাইগাররা।

তবে নতুন বলের সুইং বেশিক্ষণ স্বস্তিতে থাকতে দেয়নি ওপেনারদের। উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে দ্রুত ফিরে যান জয় ও সাদমান ইসলাম। মাত্র ৩১ রানেই দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। সেই কঠিন মুহূর্তেই দলের হাল ধরেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

শুরুর দিকে ধীরস্থির থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নিজের আসল রূপ দেখাতে শুরু করেন শান্ত। ৭১ বলে তুলে নেন ফিফটি, এরপর ১৩০ বলে পূর্ণ করেন শতক। এখন যেন অর্ধশতকে থামতেই জানেন না বাংলাদেশ অধিনায়ক। সবশেষ আট ইনিংসে চারবার পঞ্চাশ ছুঁয়ে প্রতিবারই সেটিকে রূপ দিয়েছেন সেঞ্চুরিতে।

ধৈর্য, আত্মবিশ্বাস আর নিখুঁত শট নির্বাচনে গড়া এই ইনিংস ছিল একজন পরিণত টেস্ট ব্যাটারের প্রতিচ্ছবি। চাপে থাকা দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে শান্ত আবারও বুঝিয়ে দিলেন, কেন তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য টেস্ট ব্যাটারদের একজন।

এই শতকে রেকর্ডের পাতায়ও নাম আরও উজ্জ্বল করেছেন তিনি। টেস্টে বাংলাদেশ অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি পাঁচ সেঞ্চুরির মালিক এখন শান্ত। পেছনে ফেলেছেন মুশফিকুর রহিমকে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপেও ধারাবাহিক রান করে জায়গা করে নিয়েছেন সফল অধিনায়কদের কাতারে।

অন্যদিকে আক্ষেপ সঙ্গী হয়েছে মুমিনুল হকের। সবশেষ চার ইনিংসেই ফিফটি পেলেও কোনোটি শতকে রূপ দিতে পারেননি সাবেক এই অধিনায়ক। এবারও থামতে হয়েছে ৯১ রানে। ম্যাচ শেষে হাসতে হাসতেই মুমিনুল বলেন, শতক মিস করায় এবার স্ত্রীর বকা শুনতে হবে তাকে।

দিনশেষে ৪৮ রানে অপরাজিত আছেন মুশফিকুর রহিম। যদিও দেখা যায়নি তার চেনা আগ্রাসী ব্যাটিং। লিটন দাসও খেলেছেন অনেক বেশি দায়িত্ব নিয়ে। পাকিস্তানি বোলারদের প্রতি দেখিয়েছেন বাড়তি সম্মান। তবে সেটিই ছিল বাংলাদেশের ইনিংসের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য—অযথা ঝুঁকি নয়, পরিস্থিতি বুঝে ধৈর্যের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া।

শান্ত, মুমিনুল ও মুশফিকের ব্যাটে দিনজুড়ে ফুটে উঠেছে টেস্ট ক্রিকেটের আসল রূপ, যেখানে সময়ের সঙ্গে লড়াই করেই তৈরি হয় বড় ইনিংসের ভিত।

বাংলাদেশের এই দারুণ ব্যাটিংয়ের পেছনে বড় ভূমিকা ছিল মিরপুরের ভিন্নধর্মী উইকেটেরও। স্পিননির্ভর হিসেবে পরিচিত এই মাঠে এবার দেখা গেছে সবুজ আভাযুক্ত পিচ। এখানে ব্যাটাররা যেমন রান করার সুযোগ পেয়েছেন, তেমনি ফাস্ট বোলাররাও দেখিয়েছেন নিজেদের সামর্থ্য।

এমন পিচে চার উইকেট হারিয়েও পুরো দিন নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা বাংলাদেশের ব্যাটারদের মানসিক দৃঢ়তারই প্রমাণ। এ যেন এক নতুন মিরপুর, আর সেই মিরপুরেই আত্মবিশ্বাস ও পরিণত ব্যাটিংয়ে নিজেদের নতুন গল্প লিখছে টাইগাররা।

এমআই