সাহসী সিদ্ধান্তেই বদলে গেল মিরপুরের গল্প
খেলা ডেস্ক
১২ মে ২০২৬, ১৯:৩৩
ম্যাচ জিততে হলে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া খুব একটা গতি ছিল না। ঝুঁকি ছিল, ছিল সমালোচনার সম্ভাবনাও। তবু সেই সাহসটাই দেখালেন নাজমুল হোসেন শান্ত। পঞ্চম দিনের প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগেই ইনিংস ঘোষণা করলেন তিনি। আর সেই সিদ্ধান্তেই বদলে গেল মিরপুর টেস্টের পুরো চিত্র।
ইনিংস ঘোষণার পর শুরুটা ছিল দারুণ। লাঞ্চের আগেই পাকিস্তানের ওপেনার ইমাম-উল হককে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশ ম্যাচে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করে নেয়। মধ্যাহ্নভোজের পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলে পাকিস্তান। সেঞ্চুরিয়ান আজান আওয়াইস ও আবদুল্লাহ ফজল ধীরে ধীরে ইনিংস গুছিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন।
দ্বিতীয় সেশনে সেই জুটি ভাঙেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এরপর পাকিস্তানি অধিনায়ক শান মাসুদকেও ফেরান নাহিদ রানা। ফলে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় বাংলাদেশ। যদিও ফজল–সালমান জুটি পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু চা বিরতির পর তাসকিন ও তাইজুল জুটি তাদের সেই স্বপ্ন ভেঙে দেন।
আর শেষ দিকের পুরো গল্পটা লিখে দেন নাহিদ রানা। নিজের শেষ স্পেলে একের পর এক আঘাতে তিনি ফিরিয়ে দেন সৌদ শাকিল, মোহাম্মদ রিজওয়ান, নোমান আলি ও শাহীন আফ্রিদিকে। ৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে হয়ে ওঠেন ম্যাচের সবচেয়ে বড় নাম। তাসকিন ও তাইজুল নেন দুটি করে উইকেট, একটি উইকেট পান মিরাজ।
এর আগে প্রথম ইনিংসে শান্তর সেঞ্চুরি, মুমিনুল ও মুশফিকের ফিফটিতে ৪১৩ রান করে বাংলাদেশ। জবাবে পাকিস্তান করে ৩৮৬ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রানে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ, দেয় ২৬৮ রানের লক্ষ্য। তবে এই লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ১০৪ রানে হারে পাকিস্তান।
ব্যাটিং-বোলিংয়ের আড়ালেও বাংলাদেশের জয়ের নেপথ্যে ছিল ইনিংস ঘোষণার সেই সাহসী সিদ্ধান্ত। অধিনায়ক শান্ত সময়মতো সেই সিদ্ধান্ত না নিলে হয়তো ম্যাচের ফলাফল অমীমাংসিত থেকে যেত। কিন্তু সেই সাহসী সিদ্ধান্তেই মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম জয় পায় বাংলাদেশ।
এমআই