Advertisement
Us Bangla Airlines
নাহিদের ম্যাজিকাল ডেলিভারির পেছনে ভিন্ন গল্প

নাহিদের ম্যাজিকাল ডেলিভারির পেছনে ভিন্ন গল্প

খেলা ডেস্ক

১৩ মে ২০২৬, ২২:৫৬

বলটা ছোড়ার মুহূর্তেই যেন কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে, এমন আভাস ছিল। ক্রিজের একদম শেষ প্রান্ত থেকে কোনাকুনি অ্যাঙ্গেলে ছোড়া নাহিদ রানার ডেলিভারিটি বাতাস কেটে এগিয়ে যায় রকেটগতিতে। পিচ করার পর হঠাৎই ভেতরে ঢুকে যায় বল, আর ১৪৭.২ কিলোমিটার গতির সেই ডেলিভারিতে মুহূর্তেই উড়ে যায় মোহাম্মদ রিজওয়ানের স্টাম্প।

রিজওয়ান প্রথমে বল ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। হয়তো ভাবতেই পারেননি, পুরোনো বলে এমন ভয়ংকর রিভার্স সুইং পাবেন নাহিদ। কিন্তু সিদ্ধান্ত বুঝে ওঠার আগেই অনেক দেরি হয়ে গেছে। বল তখন স্টাম্প ভেঙে দিয়েছে।

তবে এই ডেলিভারি শুধু গতির গল্প নয়, এর পেছনে ছিল নিখুঁত পরিকল্পনা। বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট আগেই বুঝেছিল, ইনসুইং ডেলিভারিতে ডানহাতি ব্যাটাররা সমস্যায় পড়েন। বিশেষ করে আনঅর্থোডক্স টেকনিকে খেলা রিজওয়ানের জন্য এটি বড় ফাঁদ হতে পারে। সেই হিসাব কষেই আক্রমণে যান নাহিদ।

ম্যাচ শেষে বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তও জানিয়েছেন, নাহিদকে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা দিয়েই বোলিংয়ে পাঠানো হয়েছিল। অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমও সেখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। পুরোনো বলের এক পাশ চকচকে রাখতে কয়েকজন ফিল্ডারকে বিশেষভাবে কাজ করেছেন, যাতে রিভার্স সুইং পাওয়া সহজ হয়।

সেই পরিকল্পনার ফলই মিলেছে মাঠে। পুরোনো বলে ভয়ংকর হয়ে ওঠেন নাহিদ। সঙ্গে তাসকিন আহমেদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। শেষ সেশনের অর্ধেক সময়েই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে সফরকারীরা। বাংলাদেশের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট হারতে হয় পাকিস্তানকে।

সবকিছুর পরও ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত মুহূর্ত হয়ে আছে রিজওয়ানের সেই আউট। এটি শুধু নাহিদের গতি কিংবা দক্ষতার উদাহরণ নয়, বরং পুরো দলের পরিকল্পিত প্রয়াসের প্রতিচ্ছবি। বোলার, ফিল্ডার আর কৌশলের নিখুঁত সমন্বয়ে তৈরি সেই ফাঁদেই ধরা পড়েছিলেন পাকিস্তানের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাটার।