কাভারের ফাঁক গলে টেস্ট স্বপ্নে তানজিদ
খেলা ডেস্ক
১৫ মে ২০২৬, ২৩:১০
সামনের পায়ের ওপর ভর করে ব্যাটের সঙ্গে বলের দুর্দান্ত সংযোগ। কাভারের ফাঁক গলিয়ে বাউন্ডারিতে আছড়ে পড়া শটটিকে বারবারই দেখতে ইচ্ছে করবে। বাঁহাতি ব্যাটারদের তৈরি দৃষ্টিনন্দন কাভার ড্রাইভের মায়া কাটানো দায়। বাইশ গজে ভক্তদের জন্য এমন মোহ আর মায়া তৈরি করেন বাংলাদেশি ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। সাদা বলের ক্রিকেটে গত তিন বছরে একাধিক ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছেন। আর মায়াকানন শটে ক্রিকেটীয় ভক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি করেছেন।
সাদা বলের ক্রিকেটে আলো ছড়িয়ে এবার সাদা পোশাকের চ্যালেঞ্জের সামনে তানজিদ তামিম। ঘরোয়া লিগে ব্যাট হাতে আলো ছড়িয়ে রানের খাতা করেছেন সমৃদ্ধ। ব্যাটিং গড় আর শতকের সংখ্যায় নজর কেড়েছেন নির্বাচকদের। অধারাবিকতায় ডুবে থাকা তামিম ব্যাট হাতে হয়েছেন আস্থার প্রতীক। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের পরিসংখ্যান আর মায়া বাড়ানো শটেই তাকে এবার নেওয়া হয়েছে টেস্ট দলে। তবে টেকনিক, আগ্রাসন, পরিসংখ্যানের দৃঢ়তায় টেস্ট দলে জায়গাটা প্রাপ্যই ছিল তামিমের।
ক্রিকেটে নিজের অবস্থান শক্তপোক্ত করতে নির্দিষ্ট কিছু দক্ষতাও দেখাতে হয়। ভালো ব্যাটারের অন্যতম দক্ষতা ‘ভি’ জোনে খেলা। অর্থাৎ সোজা ব্যাটে লং অন, লং অফ জোনের মধ্যেই রান করা। এই কাজে বেশ পারদর্শী তানজিদ তামিম। কারণটাও পরিষ্কার, ব্যাটিং টেকনিকে দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটার এই ওপেনার। বাকিদের যে বলটা শক্তি প্রয়োগ করে খেলতে হয়, তামিম তার নিখুঁত টেকনিকের কারণে সেই বলটা সহজেই বাউন্ডারি ছাড়া করতে পারেন।
প্রশ্ন হতেই পারে, টেস্টে এত বাউন্ডারির প্রয়োজন কী? আধুনিক ক্রিকেটের নিয়মে, টেস্ট এখন আর রক্ষণাত্মক খেলা নয়। ধৈর্যের সঙ্গে টেস্টে প্রয়োজন বড় শট খেলার সাহসও। তাতে প্রতিপক্ষকে রান পাহাড়ে তুলে আত্মবিশ্বাসে চিড় ধরাতে হবে। পাশাপাশি আগ্রাসী ব্যাটিং করলে বোলাররাও নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তাতে ব্যাটারদের ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সহজ হয়ে যায়। টি-টোয়েন্টিতে তানজিদ তামিম গেল বছর ৯৪টি ছক্কা হাঁকিয়েছেন। আগ্রাসনের জন্যই তাকে টেস্ট দলে নিয়েছে বাংলাদেশ।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টেকনিক, আগ্রাসনের কিছুটা উদাহরণ দেখিয়েছেন তামিম। ২৫ ম্যাচে ৪০ গড়ে করেছেন ১৭৯২ রান, ৫ সেঞ্চুরির সঙ্গে আছে ৬ ফিফটি। দারুণ খবর হলো, ১৭৯২ রানের মধ্যে প্রায় ১১০০ রান বাউন্ডারি থেকে করেছেন এই ব্যাটার। রাজশাহীর হয়ে খেলা ২৫ ম্যাচে ৪১ ছক্কার সঙ্গে মেরেছেন ২০৯ বাউন্ডারি। ঘরোয়া লিগের উজ্জ্বল পরিসংখ্যানের পাশাপাশি আগ্রাসনটাও স্পষ্ট করেছেন তামিম। ফলে টেস্ট দলে তামিমের জায়গা করে নেওয়া ছিল কেবল সময়ের ব্যাপার।
সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে কাল দ্বিতীয় টেস্টে নামছে বাংলাদেশ। সেই টেস্টে অভিষেক হতে পারে তামিমের। স্পিনের তুলনায় ফাস্ট বলে বেশি সাবলীল এই ব্যাটার। শুরুতে শাহিন-হাসানদের পেলে ব্যাটিংয়ে নিজের শক্তির জায়গাটাও দেখাতে পারবেন। আবার রয়ে সয়ে খেলার পরিবর্তে পাল্টা আক্রমণ যে তামিমের প্রকৃত ব্যাটিং। সেটা করতে পারলে পাকিস্তানকে শুরুতেই ভয় ধরিয়ে দিতে পারবেন। তাতে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে বাংলাদেশ।