২২ টেস্টে ৮ ডাক, নিজের সঙ্গে জিততে পারছেন না জয়
খেলা ডেস্ক
১৬ মে ২০২৬, ১২:২২
মাহমুদুল হাসান জয়কে নিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে একসময় ছিল বড় স্বপ্ন। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ের ঐতিহাসিক টেস্টে তার ধৈর্য, ডারবানে সেঞ্চুরির দৃঢ়তা কিংবা আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৭১ রানের ইনিংস দেখিয়ে দিয়েছিল, লম্বা পথ পাড়ি দেওয়ার সামর্থ্য আছে এই ব্যাটারের। কিন্তু প্রতিশ্রুতির সেই আলোকে বারবার ঢেকে দিচ্ছে একই পুরোনো অন্ধকার। অফ স্টাম্পের বাইরের বলের দুর্বলতায় ব্যাট হাতে ডাক মারছেন বারবার।
সিলেট টেস্টের প্রথম সকালেও বদলাল না চিত্র। আঙুলের চোটে তার খেলা নিয়েই ছিল অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত মাঠে নামলেও ইনিংস স্থায়ী হলো মাত্র দুই বল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই স্লিপে ক্যাচ দিয়ে শূন্য রানে ফেরেন বাংলাদেশ ওপেনার। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার অষ্টম ডাক।
মাত্র ২২ টেস্ট ও ৪০ ইনিংসেই ৮ বার শূন্য রানে আউট হওয়া একজন ওপেনারের জন্য বেশ অস্বস্তিকর পরিসংখ্যান। বাংলাদেশের হয়ে ইনিংস শুরু করে তার চেয়ে বেশি ডাক আছে শুধু তামিম ইকবালের। তবে তামিমের ১১ ডাক এসেছে ৭০ টেস্টের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে। জয়ের পরেই আছেন জাভেদ ওমর বেলিম, হান্নান সরকার ও সাদমান ইসলাম, তিনজনই ৫ বার করে শূন্য রানে ফিরেছেন।
জয়ের শূন্য রানে আউট হওয়ার গল্পে সবচেয়ে পরিচিত অংশ তার আউটের ধরন। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিতে গিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেওয়া যেন তার পুরোনো অভ্যাস। একজন টেস্ট ওপেনারের বড় গুণ হলো বল ছেড়ে দেওয়ার ধৈর্য ও বিচারবোধ। কিন্তু জয় প্রায়ই সেই জায়গায় ভুল করেন। অনেক সময় রক্ষণাত্মক শট খেলতেও ব্যাটে থাকে অতিরিক্ত শক্তি, যা বিপদ ডেকে আনে দ্রুতই।
অথচ তার ক্যারিয়ারে উজ্জ্বল অধ্যায়েরও কমতি নেই। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে ২৯২ মিনিট ব্যাট করে করেছিলেন ৭৮ রান। ডারবানে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৪৪২ মিনিট ক্রিজে থেকে খেলেছিলেন ১৩৭ রানের ইনিংস। সিলেটে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে করেছিলেন ৮৬, আর সবশেষ আয়ারল্যান্ড সিরিজে খেলেছেন ক্যারিয়ারসেরা ১৭১ রানের ইনিংস।
তবু প্রশ্ন থামছে না। কারণ, সামর্থ্যের ঝলক দেখানোর পরও ধারাবাহিকতার অভাব আর টেকনিক্যাল দুর্বলতা তাকে বারবার পেছনে টেনে নিচ্ছে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে মূলত তিন বা চার নম্বরে খেলা জয় প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে টেস্ট অভিষেকের আগে ওপেন করেছিলেন মাত্র একবার। কিন্তু জাতীয় দলে ওপেনিংয়ের কঠিন দায়িত্ব নিতে গিয়ে এখন তার সীমাবদ্ধতাগুলো আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। নিজের সম্ভাবনার সঙ্গে লড়াইয়ে তাই এখনো জিততে পারছেন না মাহমুদুল হাসান জয়।
এমআই