পতনের বিপরীত ব্যাকরণ লিখলেন লিটন দাস
খেলা ডেস্ক
১৬ মে ২০২৬, ১৮:০৩
সিলেটের উইকেটে ব্যাটিংটা সহজ ছিল না। পাকিস্তানি পেসারদের বলে ছিল গতি, মুভমেন্ট আর নিয়ন্ত্রিত আক্রমণ। সেই চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের টপ অর্ডার একে একে ভেঙে পড়লেও ভেঙে পড়েননি লিটন দাস। চারপাশে উইকেটের পতন, স্কোরবোর্ডে চাপ, লোয়ার অর্ডারকে নিয়ে লম্বা পথ পাড়ি দেওয়ার দায়িত্ব। সবকিছুর মাঝেও নিজের ব্যাটিং থেকে মনোযোগ সরতে দেননি তিনি। ধৈর্য, একাগ্রতা আর পরিস্থিতি বুঝে খেলার দুর্দান্ত উদাহরণ হয়ে উঠেছে তার ইনিংসটি।
বাংলাদেশ যখন ১১৬ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বড় বিপদে, তখন দেড়শ পার করাও কঠিন মনে হচ্ছিল। স্বীকৃত ব্যাটার বলতে উইকেটে ছিলেন শুধু লিটন। কিন্তু সেখান থেকেই ম্যাচের গল্প বদলে দেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে যোগ করেন আরও ১৬২ রান। ধুঁকতে থাকা বাংলাদেশকে টেনে তোলেন লড়াই করার মতো অবস্থানে।
লিটনের ইনিংসের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য ছিল তার নিয়ন্ত্রণ। ভালো বলকে সম্মান দিয়েছেন, খারাপ বলকে পাঠিয়েছেন বাউন্ডারিতে। অযথা ঝুঁকি না নিয়ে খেলেছেন হিসেবি ক্রিকেট। উইকেটের চারপাশে শট খেলে রান তুলেছেন, আবার প্রয়োজন হলে ধৈর্য ধরে কাটিয়েছেন কঠিন সময়ও। তার ব্যাটিংয়ে ছিল না তাড়াহুড়ো, ছিল পরিস্থিতি বোঝার পরিপক্বতা।
শুধু নিজের রান নয়, সঙ্গী ব্যাটারদেরও দারুণভাবে ব্যবহার করেছেন লিটন। লেজের সারির ব্যাটারদের কম স্ট্রাইক দিয়ে নিজে দায়িত্ব নিয়েছেন ইনিংস এগিয়ে নেওয়ার। বিশেষ করে ওভারের শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে স্ট্রাইক নিজের কাছে রাখার পরিকল্পনা ছিল চোখে পড়ার মতো। ফিফটির পর তার অধিকাংশ রানই এসেছে চার-ছক্কায়, যা চাপের মধ্যেও তার আত্মবিশ্বাসের প্রমাণ।
এই ইনিংসে কেবল সেঞ্চুরি করেননি লিটন, দেখিয়েছেন নেতৃত্বও। দলের বিপর্যয়ের মুহূর্তে কীভাবে দায়িত্ব নিতে হয়, কীভাবে ধৈর্য ধরে ইনিংস গড়তে হয়, সেটারই উদাহরণ হয়ে থাকল তার ১২৬ রানের ইনিংস। পাকিস্তানের বিপক্ষে এটি তার তৃতীয় এবং টেস্ট ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি। দিন শেষে স্কোরবোর্ডে ২৭৮ রান থাকলেও বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়তো লিটনের এই ইনিংস। কারণ, এটি শুধু একটি শতক নয়, কঠিন সময়ের সামনে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকার গল্পও।
এমআই