Advertisement
Us Bangla Airlines
হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পাকিস্তানকে গড়তে হবে বিশ্বরেকর্ড

হোয়াইটওয়াশ এড়াতে পাকিস্তানকে গড়তে হবে বিশ্বরেকর্ড

খেলা ডেস্ক

১৮ মে ২০২৬, ১৮:০৫

মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ইতিহাস, লিটন দাসের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা আর বোলারদের দাপটে সিলেট টেস্টে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রানে অলআউট হয়ে পাকিস্তানের সামনে ৪৩৭ রানের বিশাল লক্ষ্য ছুড়ে দিয়েছে টাইগাররা। এই লক্ষ্য তাড়া করে জিততে পারলে টেস্ট ক্রিকেটে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়বে পাকিস্তান।

প্রায় দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে ৪১৮ রানের বেশি তাড়া করে জয়ের নজির নেই। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ৪১৮ রান তাড়া করে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। সিলেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে জিততে হলে পাকিস্তানকে এবার সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে যেতে হবে।

লিটনের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে ২৭৮ রানে থামল বাংলাদেশ

অবশ্য ইতিহাস বলছে, কাজটা সহজ নয়। টেস্টে পাকিস্তানের নিজেদের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ৩৭৭, ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আর বাংলাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড ৩৯৫, ২০২১ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশের বিপক্ষে করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

এদিকে ১৫৬ রানের লিড নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে বাংলাদেশ। আগের দিন ১৩ রানে অপরাজিত থাকা অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর সঙ্গে ইনিংস শুরু করেন মুশফিকুর রহিম। তবে দিনের শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। খুররম শাহজাদের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ১৫ রানে ফেরেন শান্ত। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি।

অধিনায়কের চাওয়া ৪০০, প্রথম দিনেই ৩০০ করল বাংলাদেশ

এরপর ক্রিজে এসে আবারও দৃঢ়তার পরিচয় দেন লিটন দাস। মুশফিককে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৮৮ রানের জুটি। এই জুটিতেই বাংলাদেশ পেরিয়ে যায় ২০০ রানের লিড। লাঞ্চ বিরতিতে বাংলাদেশের লিড দাঁড়ায় ২৪৯ রান।

লাঞ্চের পরও থামেননি লিটন। ৫৪তম টেস্ট খেলতে নেমে ক্যারিয়ারে প্রথমবার এক ম্যাচের দুই ইনিংস মিলিয়ে সর্বোচ্চ রান করেন এই উইকেটকিপার ব্যাটার। প্রথম ইনিংসে ১২৬ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ৬৯। সব মিলিয়ে তার রান দাঁড়ায় ১৯৫। এর আগে এক টেস্টে তার সর্বোচ্চ ছিল ১৯৩ রান, ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মিরপুর টেস্টে।

অন্য প্রান্তে ধীরে ধীরে ইনিংস বড় করেন মুশফিকুর রহিম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটার ১৭৮ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ১৪তম টেস্ট সেঞ্চুরি। ৯টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসটি শেষ হয় ১৩৭ রানে। ২৩৩ বলের ইনিংসে বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক হিসেবে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন তিনি।

দ্বিতীয় টেস্টের জন্য স্কোয়াড ঘোষণা করল বিসিবি

সাদা বলের ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও টেস্টে এখনও সমান ক্ষুধার্ত মুশফিক। সিরিজের প্রথম টেস্টের পর দ্বিতীয় টেস্টেও ব্যাট হাতে দলের ভরসা হয়ে উঠলেন তিনি। ক্যারিয়ারের শেষভাগে এসেও তার ব্যাট যেন আরও পরিণত, আরও নির্ভরযোগ্য। শেষদিকে তাইজুল ২২, শরিফুল ১২ ও তাসকিনের ৬ রানে বাংলাদেশের সংগ্রহ পৌঁছে যায় ৩৯০ রানে।

এখন ম্যাচ বাঁচানোই নয়, হোয়াইটওয়াশ এড়াতেও পাকিস্তানের সামনে অসম্ভব এক মিশন। সিলেটের উইকেটে ইতিহাস গড়তে না পারলে সিরিজ হাতছাড়া হবেই সফরকারীদের। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিপক্ষে টানা দুই সিরিজ হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পাবে বাবর আজমরা।

এমআই