দ্বিতীয়বার হোয়াইটওয়াশের মুখে পাকিস্তান
খেলা ডেস্ক
১৮ মে ২০২৬, ২২:২৭
দেড়শ রানের কাছাকাছি পৌঁছে হয়তো ইনিংসটা থামাতে চেয়েছিলেন মুশফিকুর রহিম। কিন্তু শেষদিকে আর ব্যাটে-বলে ঠিকঠাক মিলছিল না। ১৩৭ রানে আউট হয়ে ফিরেই হেলমেটের ওপর ক্ষোভ ঝাড়েন অভিজ্ঞ এই ব্যাটার। এমন আচরণে শাস্তির মুখেও পড়তে পারেন তিনি। তবে দিনের সবচেয়ে বড় কাজটা আগেই করে ফেলেছেন। তার সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে ৪৩৬ রানের বিশাল লিডে।
এই লিডের সামনে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের সামনে এখন ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ। এই টেস্ট জিততে হলে তাদের লক্ষ্য ৪৩৭ রান, যা করতে পারলে টেস্ট ইতিহাসেই নতুন বিশ্বরেকর্ড লেখা হবে। প্রায় দেড়শ বছরের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ ইনিংসে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়া ৪১৮। ২০০৩ সালে অ্যান্টিগায় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই কীর্তি গড়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। অর্থাৎ পাকিস্তানকে শুধু জিততে নয়, ছাড়িয়ে যেতে হবে ইতিহাসের সর্বোচ্চ সীমাকেও।
পরিসংখ্যান বলছে, কাজটা প্রায় অসম্ভবের কাতারে। পাকিস্তানের টেস্ট ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড ৩৭৭, ২০১৫ সালে পাল্লেকেলেতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। আর বাংলাদেশের মাটিতে সর্বোচ্চ সফল রান তাড়ার রেকর্ড ৩৯৫, ২০২১ সালে চট্টগ্রামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের করা সেই ম্যাচ।
সিলেটের এই উইকেটে সকালগুলো বরাবরই কঠিন। তিন দিন ধরেই শুরুতে পেসাররা পেয়েছেন বাড়তি সুইং আর বাউন্স। নতুন বল হাতে তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলামের ওপরই এখন ভরসা বাংলাদেশ শিবিরের। বিশেষ করে হিট দ্য ডেকে তাসকিনের গতি আর আক্রমণ হতে পারে পাকিস্তানের জন্য বড় পরীক্ষা, আর শেষ বিকেলে শরিফুলের সুইং আগেও ব্যাটারদের ভুগিয়েছে।
ব্যাট হাতে শুধু টপ অর্ডার নয়, লোয়ার অর্ডারও অবদান রেখেছে। তাইজুল ইসলাম ও শরিফুল ইসলাম গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করে লিটন-মুশফিকদের ইনিংসকে পৌঁছে দিয়েছেন আরও বড় উচ্চতায়। সেই অতিরিক্ত রানই এখন ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দিয়েছে। সবমিলিয়ে ব্যাটাররা তাদের কাজটা শেষ করেছে প্রায় নিখুঁতভাবে। এবার সিলেটের সবুজ উইকেটে বোলারদের হাতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ। ধৈর্য আর পরিকল্পনা ঠিক রাখতে পারলে টানা দ্বিতীয়বার পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার স্বপ্নটা এখন আর দূরে নয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে পাকিস্তানে গিয়ে বাবরদের ২-০ ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। আরেকবার পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করার অপেক্ষায় টাইগাররা।
এমআই