পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করতে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৩ বল!
খেলা ডেস্ক
১৯ মে ২০২৬, ১৭:৪৬
রিজওয়ান ও সালমান আলি আগা ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন দুর্ভেদ্য দেয়ালের মতো। ধৈর্য আর দৃঢ়তায় তারা ম্যাচটাকে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছিলেন। ২২৪ বলের ম্যারাথন জুটিতে যোগ করেন ১৩৪ রান। একসময় হারের শঙ্কাও ভর করেছিল টাইগার শিবিরে।
তবে চতুর্থ দিনের শেষ বিকেলে দৃশ্যপট বদলে দেন তাইজুল ইসলাম। দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে ৭১ রান করা সালমান আগাকে বোল্ড করে ভাঙেন পাকিস্তানের প্রতিরোধ। ২৯৬ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় সফরকারীরা। এরপর উইকেটে এসে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি হাসান আলি। মাত্র ৬ বল খেলে তাইজুলের বলেই স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি।
শেষ বিকেলে মাত্র ৮ বলের ব্যবধানে দুই উইকেট তুলে ম্যাচে দারুণভাবে ফিরে আসে বাংলাদেশ। তাতে চতুর্থ দিন শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ৩১৬ রান। জয়ের জন্য এখনো তাদের প্রয়োজন ১২১ রান, বাংলাদেশের দরকার শেষ ৩ উইকেট। অর্থাৎ হোয়াইটওয়াশের স্বপ্ন থেকে টাইগাররা এখন মাত্র তিনটি ম্যাজিকাল বল দূরে।
এদিকে দিনের শুরুতেই আঘাত হানে বাংলাদেশ। দলীয় ২৭ রানে নাহিদ রানার বলে গালিতে ক্যাচ দেন আব্দুল্লাহ ফজল। দুর্দান্ত সেই ক্যাচ নেন মেহেদি হাসান মিরাজ। এরপর আজান আওয়াইসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ২১ রান করে মিরাজের শিকার হন তিনি।
দুই উইকেট হারানোর পর বাবর আজম ও অধিনায়ক শান মাসুদ হাল ধরেন পাকিস্তানের। তাদের ৯২ রানের জুটি কিছুটা চাপে ফেলে বাংলাদেশকে। তবে সেই জুটি ভাঙেন তাইজুলই। ৪৭ রান করা বাবর ব্যাটের কানা ছুঁইয়ে ক্যাচ দেন লিটন দাসের গ্লাভসে।
এরপর নাহিদ রানার গতির সামনে টিকতে পারেননি সৌদ শাকিলও। ওয়াইড ইয়র্কারে ব্যাট ছুঁইয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন তিনি। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি পাকিস্তানি এই ব্যাটার। পরে ৭১ রান করা অধিনায়ক শান মাসুদকেও ফিরিয়ে দেন তাইজুল। শর্ট লেগে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
এর আগে মুশফিকুর রহিমের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ৩৯০ রান তোলে বাংলাদেশ। পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৩৭ রান। এখন সেই লক্ষ্য থেকে এখনও অনেক দূরে সফরকারীরা, আর ইতিহাস গড়ার খুব কাছাকাছি বাংলাদেশ। শেষদিনে শান্তরা জিতলে পাকিস্তানকে টানা দ্বিতীয়বার হোয়াইটওয়াশ করার স্বাদ পাবে বাংলাদেশ।
এমআই