যুগ পেরিয়েও অপ্রতিরোধ্য নারিন
খেলা ডেস্ক
২১ মে ২০২৬, ২১:৪৭
ক্রিকেট বদলেছে, বদলেছে ব্যাটিংয়ের ভাষা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট হয়ে উঠেছে ব্যাটারদের রাজত্ব। চার-ছক্কার ঝড়ে এখন প্রায় প্রতিটি ম্যাচেই রানবন্যা, যেখানে বোলারদের জন্য ইকোনমি রেট নিয়ন্ত্রণে রাখা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। এই ব্যাটিং-নির্ভর যুগে দাঁড়িয়ে আইপিএলে ব্যতিক্রম এক নাম সুনিল নারিন।
আইপিএলে ২০১২ সালে অভিষেকের পর থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের এই ক্যারিবিয়ান স্পিনার যেন সময়ের নিয়মকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে যাচ্ছেন। দেড় দশক পেরিয়ে গেলেও ব্যাটারদের কাছে তিনি এখনো এক ধাঁধা, এক অচেনা সমীকরণ।
সময় বদলেছে, কন্ডিশন বদলেছে, আক্রমণাত্মক ব্যাটিং বেড়েছে বহুগুণ। তবুও প্রতি মৌসুমেই নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন নারিন। পরিসংখ্যান বলছে, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে তাঁর ইকোনমি রেট ওঠানামার মধ্যেও বেশিরভাগ সময়ই ছিল নিয়ন্ত্রিত।
বছরভিত্তিক চিত্রটা এমন— ২০১২ সালে ইকোনমি রেট ছিল ৫.৪৮। পরের বছর ২০১৩ সালে তা সামান্য কমে দাঁড়ায় ৫.৪৭-এ। ২০১৪ সালে বেড়ে হয় ৬.৩৬, আর ২০১৫ সালে আরও বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৭.৩১-এ। ২০১৬ সালে কিছুটা কমে ৭.১৩ হলেও ২০১৭ সালে আবার নেমে আসে ৬.৯৮-এ।
২০১৮ সাল থেকে ইকোনমি রেট আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়। সে বছর তা দাঁড়ায় ৭.৬৬, ২০১৯ সালে বেড়ে হয় ৭.৮৩ এবং ২০২০ সালে পৌঁছায় ৭.৯৫-এ। এরপর ২০২১ সালে আবার কমে দাঁড়ায় ৬.৪৫।
২০২২ সালে ইকোনমি রেট ছিল ৫.৫৭। তবে ২০২৩ সালে তা আবার বেড়ে সর্বোচ্চ ৭.৯৮-এ পৌঁছায়। ২০২৪ সালে কিছুটা কমে ৬.৬৯, ২০২৫ সালে আবার বেড়ে ৭.৮০-এ ওঠে। আর ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ইকোনমি রেট দাঁড়িয়েছে ৬.৪০।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক টি-টোয়েন্টির এই ব্যাটিং-উন্মাদনার যুগে দীর্ঘ সময় ধরে এমন ধারাবাহিকতা ধরে রাখা বিরল ঘটনা। তাই সময় যতই এগিয়ে যাক, নারিন যেন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। ১৫ বছর পার হলেও নারিন ব্যাটারদের জন্য এখনো এক অদম্য রহস্য।
এমআই