Advertisement
Us Bangla Airlines
সমর্থকদের ভাঙচুর, মাঠে ১০ মিনিটও থাকলেন না মেসি

সমর্থকদের ভাঙচুর, মাঠে ১০ মিনিটও থাকলেন না মেসি

খেলা ডেস্ক

১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৫:৩০

লিওনেল মেসির আগমনে ভারতজুড়ে তৈরি হওয়া উন্মাদনা শেষ পর্যন্ত রূপ নিল ক্ষোভ ও বিশৃঙ্খলায়। কলকাতার যুব ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে মাত্র ১০ মিনিটও মাঠে থাকতে পারলেন না আর্জেন্টাইন মহাতারকা। মেসিকে কাছ থেকে দেখতে না পেয়ে ক্ষুব্ধ সমর্থকরা চালায় ভাঙচুর, মুহূর্তেই রণক্ষেত্রে পরিণত হয় স্টেডিয়াম।

শুক্রবার মধ্যরাতে কলকাতায় পৌঁছান মেসি। অবস্থান করেন হায়াট রিজেন্সি হোটেলে। সকাল ১১টা থেকে তাকে ঘিরে শুরু হয় নানা আনুষ্ঠানিক আয়োজন। এর অংশ হিসেবে মোহনবাগান অল স্টার্স ও ডায়ামন্ড হার্বার্স অল স্টার্সের প্রদর্শনী ম্যাচের আগে দুপুরের দিকে যুব ভারতী স্টেডিয়ামে পৌঁছান তিনি। মেসির সঙ্গে ছিলেন লুইস সুয়ারেজ ও রদ্রিগো ডি পল।

তবে মাঠে পৌঁছানোর পরপরই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মেসিকে ঘিরে ধরেন মন্ত্রী, সংগঠক ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। নিরাপত্তা বেষ্টনীর কারণে গ্যালারি থেকে মেসিকে দেখার কোনো সুযোগ পাননি সাধারণ দর্শকরা। এমনকি স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনেও মেসির উপস্থিতি স্পষ্টভাবে দেখানো হয়নি।

চড়া দামে টিকিট কেটে মাঠে আসা হাজারো সমর্থক এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। গ্যালারি থেকে ভেসে ওঠে ‘উই ওয়ান্ট মেসি’ স্লোগান। পরিস্থিতি শান্ত করতে মাইক্রোফোনে ঘোষণা দেন রাজ্যের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস ও প্রধান আয়োজক শতদ্রু দত্ত। তবু ক্ষোভ কমেনি।

এরই মধ্যে দুপুর ১১টা ৫২ মিনিটে আচমকা মেসিকে মাঠ থেকে বের করে নেওয়া হয়। মাঠে তার অবস্থান ছিল ১০ মিনিটেরও কম। প্রিয় তারকাকে এক ঝলকও দেখতে না পেয়ে উত্তেজিত সমর্থকরা গ্যালারিতে ভাঙচুর শুরু করেন। ভেঙে ফেলা হয় হোর্ডিং ও চেয়ার, মাঠে ছোড়া হয় বোতল।

একপর্যায়ে ফেন্সিংয়ের গেট ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়ে শতাধিক দর্শক। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে জনতাকে গ্যালারিতে ফেরত পাঠায়। তবে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আবারও মাঠে ঢোকার চেষ্টা চলে।

ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমর্থকরা আয়োজনকে ‘চরম অপমান’ ও ‘পুরোপুরি অব্যবস্থাপনা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। শুরু থেকেই মেসির ভারত সফর নিয়ে বিতর্ক থাকলেও কলকাতার ঘটনা সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিল।

এমআই