আমিনুলের পরাজয়ে ক্রীড়াবিদদের প্রতিক্রিয়া
খেলা ডেস্ক
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:১৮
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্রীড়াঙ্গনের নজর সবচেয়ে বেশি ছিল জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকের ওপর। কিন্তু নির্বাচনে পরাজয় তাঁর ভক্ত ও সহকর্মীদের মধ্যে বিস্ময় ও হতাশার স্রোত সৃষ্টি করেছে। ক্রীড়াঙ্গনের অনেকেই সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেও, আমিনুল হক ভোটের লড়াইয়ে হেরেছেন।
জাতীয় দলের দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সাবেক গোলরক্ষক বিপ্লব ভট্টাচার্য্য বললেন, ‘আমিনুলের হার মেনে নেওয়ার মতো নয়। খেলোয়াড় হিসেবে তার যেমন পরিচিতি, রাজনৈতিক নেতা হিসেবে সে অত্যন্ত ত্যাগী। এরপরও আমিনুল হারছে এটা কোনোভাবেই মানতে পারছি না।’
আমিনুলের আরেক সতীর্থ, জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক ফুটবলার ও মোহামেডানের ম্যানেজার ইমতিয়াজ আহমেদ নকীব মন্তব্য করেন, ‘দলের প্রতি নিবেদন, মিরপুরের জনগণের প্রতি ভালোবাসা—সব কিছু মিলিয়ে আমিনুলের হার কাম্য ছিল না।’
উপমহাদেশের প্রথম দাবায় গ্র্যান্ডমাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘শুধু খেলোয়াড় বা জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে নয়, রাজনৈতিক নেতা হিসেবেও তিনি খুব যোগ্য। এত পরিশ্রমের ফলাফল পাওয়ার কথা ছিল। যদিও মিরপুরের তিনটি আসনেই বিএনপি হেরেছে, তাই হয়তো অন্য কোনো ইস্যু প্রভাবিত করেছে।’
আমিনুলের নির্বাচনী প্রচারণায় সাবেক ক্রীড়াবিদ ও সংগঠকরাও সক্রিয় ছিলেন। বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়ালও কিছুদিন তার পক্ষে জনসংযোগ করেছেন। তবুও জয় এল না।
ক্রীড়াঙ্গনের একাধিক বিশ্লেষক মনে করছেন, সংসদ সদস্য না হলেও দলের ইচ্ছায় আমিনুলকে টেকনোক্রেট হিসেবে মন্ত্রী করা যেতে পারে। নিয়াজ মোর্শেদ বলেন, ‘এখন ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে যোগ্য ব্যক্তি আমিনুলই। তার যোগ্যতা দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে উপকৃত করবে।’
ঢাকা-১৬ আসনে ভোটের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জয়ী আব্দুল বাতেন পেয়েছেন ৮৮,৮২৮ ভোট, আর আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫,৪৬৭ ভোট। মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৪৯৯ জন, ভোটের হার ৪৬ শতাংশ। পোস্টাল ব্যালটসহ শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা করা হয়।
এমআই