চীনের সঙ্গে দারুণ লড়াই করল বাংলাদেশ
খেলা ডেস্ক
০৩ মার্চ ২০২৬, ১৬:১১
সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামের সবুজ ঘাসে লেখা হলো বাংলাদেশের নারী ফুটবলের এক নতুন ইতিহাস। বিশ হাজারের বেশি দর্শকধারণ ক্ষমতার মাঠে জড়ো হয়েছিলেন ছয় হাজারেরও বেশি দর্শক। গ্যালারির বড় অংশজুড়ে ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। তাদের চোখের সামনে এশিয়ার বর্তমান ও সর্বাধিকবারের চ্যাম্পিয়ন চীনের নারী জাতীয় ফুটবল দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো এশীয় আসরে পা রাখল বাংলাদেশ।
র্যাংকিংয়ের হিসাবে ব্যবধান বিস্তর—চীন ১৭, বাংলাদেশ ১১২। তবু মাঠের খেলায় সেই ফারাক পুরোপুরি ধরা পড়েনি। রক্ষণে দৃঢ়তা রেখে মাঝমাঠে বলের দখল নেওয়ার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশ। সুযোগ মিললেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ছুটেছে সামনের সারির খেলোয়াড়রা। শারীরিক শক্তি ও কারিগরি দক্ষতায় চীনা ফুটবলাররা এগিয়ে থাকলেও ফিটনেস ও লড়াইয়ের মানসে পিছিয়ে ছিল না লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
চীনের প্রথম গোল পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৪৪ মিনিট পর্যন্ত। ম্যাচের ২২ মিনিটে তারা বল জালে পাঠালেও ভিডিও সহকারী রেফারির সহায়তায় সেটি বাতিল হয়। তাতে গোলের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হয়। অবশেষে ৪৪ মিনিটে দূরপাল্লার জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন ওয়াং শুয়াং। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তেই আসে দ্বিতীয় গোল। ঝাং রুইয়ের নেওয়া শট বাংলাদেশের দুই রক্ষণভাগের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে দিক বদলে জালে জড়ায়। গোলটি প্রযুক্তির সহায়তায় যাচাই করা হলেও সিদ্ধান্ত যায় বাংলাদেশের বিপক্ষে।
গোলরক্ষক মিলি আক্তারের জন্য এটি ছিল বড় পরীক্ষার দিন। শুরুতে খানিকটা স্নায়ুচাপ দেখা গেলেও সময়ের সঙ্গে আত্মবিশ্বাস ফিরে পান। বিশেষ করে দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি এক লাফে নিশ্চিত গোল রুখে দিয়ে তিনি প্রশংসা কুড়ান। তাঁর দৃঢ়তায় ব্যবধান আর বাড়াতে পারেনি চীন। বাংলাদেশের একটি আক্রমণ শাস্তিমূলক লাথি পাওয়ার মতো কি না, তা নিয়েও ভিডিও সহকারী রেফারি পরীক্ষা করেন; কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত মেলেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই তিনটি পরিবর্তন এনে আক্রমণে গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশ। তহুরা, হালিমা ও স্বপ্নার উপস্থিতিতে দল রক্ষণভাগের গণ্ডি পেরিয়ে সামনে এগোয়। শেষদিকে সুইডিশ প্রবাসী আনিকা রহমানের অভিষেক নতুন আশার সঞ্চার করে। চীনও খেলোয়াড় বদল করলেও আর গোল করতে পারেনি।
ম্যাচের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি আসে ১৪ মিনিটে। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ঋতুপর্ণা চাকমা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে পেছনে ফেলে প্রায় ত্রিশ গজ দূর থেকে জোরালো শট নেন। বল প্রায় জালে ঢুকেই যাচ্ছিল, কিন্তু চীনের গোলরক্ষক চেন চেন পেছনে লাফিয়ে সেটি রুখে দেন। আর সামান্য এদিক-সেদিক হলেই হয়তো সেটিই হয়ে উঠত আসরের সেরা গোলগুলোর একটি।
শেষ পর্যন্ত ফলাফল ২–০, চীনের জয়। কিন্তু এই ম্যাচ কেবল পরাজয়ের গল্প নয়। এটি সাহসের গল্প, আত্মবিশ্বাসের গল্প, বড় মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য জানান দেওয়ার গল্প। এশিয়ার সবচেয়ে সফল দলের সামনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ দেখিয়েছে লড়াই করতে তারা জানে, আর এই মঞ্চে তাদের পথচলা কেবল শুরু।
এমআই