Advertisement
Us Bangla Airlines
গরমের কাছেই হারল বাংলাদেশ!

গরমের কাছেই হারল বাংলাদেশ!

খেলা ডেস্ক

০৬ মার্চ ২০২৬, ১৫:৪৮

সিডনির তপ্ত দুপুরে শক্তিশালী উত্তর কোরিয়ার সামনে শেষ পর্যন্ত টিকতে পারল না বাংলাদেশের নারী ফুটবল দল। লড়াইয়ের চেষ্টা থাকলেও বাস্তবতা ছিল কঠিন। উত্তর কোরিয়ার কাছে শেষ পর্যন্ত ৫–০ গোলের বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে আফিদা খন্দকারদের। তবে ৯ মার্চের উজবেকিস্তান ম্যাচ ঘিরে এখনো স্বপ্ন দেখছে পিটার বাটলারের দল।

ওয়েস্টার্ন সিডনি স্টেডিয়ামের মিক্সড জোনে ম্যাচ শেষে কথা বলেছেন বাংলাদেশের কয়েকজন খেলোয়াড়। তীব্র গরম, শক্তিশালী প্রতিপক্ষ আর ম্যাচের ধকল—সব মিলিয়ে ক্লান্তি থাকলেও তাঁদের কণ্ঠে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। যদিও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে এমন হারের পেছনে তপ্ত গরমের দায় কোনো অংশে কম নয়।

ম্যাচে শেষে মিক্সড জোনে বাংলাদেশ অধিনায়ক আফিদা খন্দকার বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে যে ভুলগুলো হয়েছে, পরের ম্যাচে সেগুলো যেন না করি, সেটাই লক্ষ্য। তারা বিশ্বের ৯ নম্বর দল, খুবই শক্তিশালী। আমাদের লক্ষ্য ছিল ভালো খেলা আর লড়াই করা—আমরা সেটাই করার চেষ্টা করেছি।’

সিডনির তীব্র গরম এদিন বাংলাদেশের মেয়েদের জন্য বাড়তি পরীক্ষাই হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আফিদা বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে এসেছি, তখন এত গরম ছিল না। কয়েক দিন আগে আসায় এখানকার আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। উজবেকিস্তান ম্যাচ এখনো বাকি। আশা করি সেখানে ভালো কিছু করতে পারব, পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ এখনো আছে।’

মিডফিল্ডার স্বপ্না রানীও জানালেন তপ্ত আবহাওয়ার ধকলের কথা। দুপুরের প্রখর রোদে খেলতে গিয়ে বেশ ভুগেছেন খেলোয়াড়েরা। তাঁর কথায়, ‘দুপুরে খেলা হয়েছে, রোদও ছিল প্রচণ্ড। এমন রোদে খেলতে গিয়ে সবারই অনেক কষ্ট হয়েছে।’

তবে হারের কারণ খুঁজে বের করতে চাইছে দল। স্বপ্না বলেন, ‘আজকের ম্যাচ আমরা ভিডিও বিশ্লেষণ করব। আমাদের হারানোর কিছু ছিল না। তারা অনেক ভালো দল। আমরা চেষ্টা করেছি। এখন উজবেকিস্তান ম্যাচের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিতে চাই।’

এই ম্যাচেও বাংলাদেশের গোলবারে দৃঢ়তা দেখিয়েছেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। অন্তত পাঁচবার নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে বড় ব্যবধান আরও বাড়তে দেননি তিনি। ম্যাচ শেষে মিলি বলেন, ‘খুব শক্ত দলের সঙ্গে খেলেছি। এমন দলের বিপক্ষে খেললে বোঝা যায় কোথায় কোথায় সমস্যা আছে। সেগুলো ঠিক করার চেষ্টা করব পরের ম্যাচে।’

গরমের বিষয়টি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের কোচ পিটার বাটলারও। তাঁর মতে, তীব্র রোদে কিছু খেলোয়াড় শারীরিকভাবে ভুগেছেন। ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমার মনে হয়েছে, রোদের কারণে আমাদের কয়েকজন খেলোয়াড় নুয়ে পড়েছিল। ফলে আমরা নিজেদের সেরাটা দিতে পারিনি,’ বলেন তিনি।

সব মিলিয়ে এখন বাংলাদেশের সামনে একটাই লক্ষ্য, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে বাঁচা-মরার লড়াই। কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটতে অবশ্য চীন-উজবেকিস্তান ম্যাচও বড় ভূমিকা পালন করবে। এই ম্যাচে চীনের গোল সংখ্যা অন্তত ৫ হলে এগিয়ে থাকবে লাল-সবুজের দল।

এমআই