এশিয়ান কাপ থেকে বিদায় নিল বাংলাদেশ
খেলা ডেস্ক
০৯ মার্চ ২০২৬, ১৭:২০
শেষ বাঁশি বাজতেই যেন থমকে গেল বাংলাদেশের মেয়েরা। ইরানি রেফারি মানহাজ খেলা শেষের সংকেত দিতেই কেউ দাঁড়িয়ে রইলেন নিশ্চুপ, কেউ আবার বসে পড়লেন মাঠেই। স্বপ্নভঙ্গের সেই মুহূর্তেই শেষ হলো প্রথমবার নারী এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অভিযান। প্রত্যাশার ম্যাচে মেনে নিতে হলো বড় হার।
‘বি’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশের সামনে ছিল জয়ের বাধ্যবাধকতা। শুধু জয়ই নয়, বড় ব্যবধানের জয় দরকার ছিল কোয়ার্টার ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে। কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে নিজেদের কাজটাই করতে পারল না লাল-সবুজের দল। উজবেকিস্তানের কাছে ৪-০ গোলে হেরে টুর্নামেন্ট থেকেই বিদায় নিতে হলো।

প্রথমার্ধে বাংলাদেশ পিছিয়ে ছিল ১-০ গোলে। বিরতির পর সমতায় ফেরার আশায় আক্রমণে ঝাঁপালেও উল্টো গোল হজম করতে হয় আরও তিনটি। বিশেষ করে রক্ষণভাগের ভুলে বিপদ ডেকে আনে বাংলাদেশ। ৬২ ও ৬৬ মিনিটে মাত্র চার মিনিটের ব্যবধানে দুই গোল হজম করে দলটি।
শেষদিকে ৮৭ মিনিটে আরেকটি গোল করে উজবেকিস্তান, তাতেই বড় হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে। তবে গোলরক্ষক মিলি আক্তারের কাছ থেকে বল কেড়ে নিয়ে করা উজবেকিস্তানের একটি গোল পরে চিত্রপর্যালোচনায় বাতিল হয়।
দ্বিতীয়ার্ধে শামসুন্নাহার, প্রীতি ও হালিমাকে নামিয়েও ম্যাচের গতিপথ ঘোরাতে পারেননি কোচ পিটার বাটলার। সুইডেন প্রবাসী আনিকাও শুরুর একাদশে সুযোগ পেলেও প্রত্যাশিত ছাপ রাখতে পারেননি। এই ম্যাচে নেমেছিল বাংলাদেশ কোয়ার্টার ফাইনাল ও বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে। কিন্তু ঘটল উল্টো ঘটনা।

তিন ম্যাচ শেষে উজবেকিস্তানের পয়েন্ট তিন, গোল ব্যবধান মাইনাস ২। ‘এ’ গ্রুপের ফিলিপাইনেরও একই পয়েন্ট ও সমান গোল ব্যবধান। ‘সি’ গ্রুপে জাপান ভিয়েতনামকে বড় ব্যবধানে হারালে উজবেকিস্তানের শেষ আটে ওঠার সম্ভাবনা আরও বাড়বে।
বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলারের উঁচু রক্ষণভাগের কৌশল নিয়ে আগেই ছিল সমালোচনা। আজ সেই কৌশলই বিপদ ডেকে আনে। উজবেকিস্তানের আক্রমণভাগ বারবার ভেঙে দেয় বাংলাদেশের রক্ষণ। ফলে গোলরক্ষক মিলি আক্তারকে একাই সামলাতে হয়েছে বহু আক্রমণ।

তবু ম্যাচের শুরুতে আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশই। বলের দখলেও এগিয়ে ছিল দলটি। ৩০ মিনিটে দ্রুতগতির আক্রমণে ঋতুপর্ণা শক্ত শট নিলে উজবেক গোলরক্ষক মাফতুনা কষ্টে লাফিয়ে এক হাতে বল ঠেকান।
প্রথমার্ধের শেষদিকে আরও দুটি সুযোগ পায় বাংলাদেশ। তহুরা খাতুনের শট ফিরিয়ে দিলে বল পান কোহাতি কিসকু। গোল প্রায় ফাঁকাই ছিল, কিন্তু শট পোস্টে রাখতে পারেননি তিনি। এরপর সংঘবদ্ধ আক্রমণে বক্সের সামনে বল পেয়ে মারিয়া মান্দার নেওয়া বুদ্ধিদীপ্ত শটও গোল সংখ্যায় অভিষেক ঘটাতে পারেনি।
এমআই