ভারতকে জিততে দিল না বাংলাদেশ
খেলা ডেস্ক
২৮ মার্চ ২০২৬, ১৯:০৩
সাফ অনূর্ধ্ব–২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশ–ভারত লড়াই মানেই উত্তাপ, নাটক আর শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ। মালদ্বীপের মাঠে আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পিছিয়ে পড়েও দারুণ লড়াই করে শেষ পর্যন্ত ভারতকে জয়ের হাসি হাসতে দেয়নি বাংলাদেশ। ম্যাচ ড্র করে গ্রুপ রানার্সআপ হিসেবে সেমি খেলবে রোনান সুলিভানরা।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণের এই ম্যাচে শুরুটা ভালো ছিল না লাল-সবুজদের। ম্যাচের ১৭ মিনিটে কর্নার থেকে বিশাল যাদব-এর হেডে এগিয়ে যায় ভারত। গোল হজমের পর থেকেই সমতায় ফেরার মরিয়া চেষ্টা শুরু করে বাংলাদেশ। একের পর এক কর্নার পেলেও শেষ পর্যন্ত কাজের কাজ হচ্ছিল না, আক্রমণগুলো বারবার থেমে যাচ্ছিল শেষ মুহূর্তে।

মাঠের ভেতরের লড়াই ছড়িয়ে পড়ে ডাগআউটেও। এক ফাউলকে কেন্দ্র করে চতুর্থ রেফারির সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে হলুদ কার্ড দেখেন ভারতের কোচ মহেশ গাউলি। পরে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হলে বাংলাদেশের কোচ মার্ক কক্স এবং ভারতের গোলকিপিং কোচ সন্দীপ নন্দী—দুজনকেই লাল কার্ড দেখাতে বাধ্য হন রেফারি।
নাটকীয়তার চূড়াটা আসে বিরতির আগ মুহূর্তে। যোগ করা সময়ের দশম মিনিটে কর্নার থেকে দারুণ ভলিতে গোল করে বাংলাদেশকে সমতায় ফেরান রিয়াদ ফাহিম। কর্নার নেওয়া নিয়েও ছোট্ট নাটক ছিল। প্রথমে নাজমুল হুদা ফয়সাল এগোলেও শেষ পর্যন্ত বলটি নেন রোনান সুলিভান, আর সেখান থেকেই আসে কাঙ্ক্ষিত গোল।

বিরতির পর আক্রমণে আরও ধারালো হয়ে ওঠে বাংলাদেশ। তবে একাধিক সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। পাল্টা আক্রমণে ভারতও গোলের দেখা পায়নি। ফলে শেষ পর্যন্ত ১–১ সমতায় শেষ হয় ম্যাচ। এই ড্রয়ে ভারত গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। আর বাংলাদেশকে সন্তুষ্ট থাকতে হচ্ছে রানার্সআপ হয়ে।
সেমিফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ নেপাল। তবে লড়াইয়ের যে তীব্রতা আর মনোবল দেখিয়েছে বাংলাদেশ, তাতে পরের ম্যাচ ঘিরে আশার আলো দেখতেই পারে সমর্থকরা।
এমআই