সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিল বাংলাদেশ
খেলা ডেস্ক
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২০:২৯
বাঁচা-মরার ম্যাচে চাপ সামলাতে পারেনি বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের সুপার সিক্সের গুরুত্বপূর্ণ সেই লড়াইয়ে মাত্র ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা। তাতে ১৫৫ বল হাতে রেখে ও ৭ উইকেট বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে যায় ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দল। এই হারে ২০২০ সালে শিরোপা জয়ের পর টানা তিন আসরে সেমিফাইনালের আগেই বিদায় নিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশের পথচলাটাই কঠিন করে তুলেছিল টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বের সমীকরণ। ‘বি’ গ্রুপে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ভারতের পর দ্বিতীয় হয়ে সুপার সিক্সে উঠলেও বাংলাদেশের একমাত্র জয় এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে। যুক্তরাষ্ট্র সুপার সিক্সে না ওঠায় সেই ম্যাচের পয়েন্ট আর সঙ্গে নিতে পারেনি বাংলাদেশ।
ভারতের কাছে হার ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়া ম্যাচ মিলিয়ে সুপার সিক্স শুরু হয় মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে। অন্যদিকে একই গ্রুপে থাকা ভারত ও ইংল্যান্ড সুপার সিক্স শুরু করে ৪ পয়েন্ট নিয়ে। নিয়ম অনুযায়ী, সুপার সিক্সে প্রতিটি দল অন্য গ্রুপ থেকে আসা দুই দলের বিপক্ষে খেলবে। ফলে জয় ছাড়া কোনো পথই ছিল না বাংলাদেশের সামনে।

বাঁচা-মরার সেই চাপ সামলাতে ব্যর্থ হয় যুবারা। টসে জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর ৩৮.১ ওভারে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই জাওয়াদ আবরারের বিদায়ের পর অধিনায়ক আজিজুল হাকিমকে সঙ্গে নিয়ে ওপেনার রিফাত বেগ গড়েন ৪৬ রানের জুটি। তবে ইংলিশ অফ স্পিনার ফারহান আহমেদ রিফাতকে উইকেটকিপারের ক্যাচ বানিয়ে ভাঙেন সেই জুটি।
৩৬ বলে ৩১ রান করা রিফাত ফিরতেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। অধিনায়ক আজিজুল হাকিম ও উইকেটকিপার মোহাম্মদ আবদুল্লাহ (২৫) ছাড়া আর কেউ ২০ রানের ঘরও ছুঁতে পারেননি। ফলে স্কোরবোর্ডে চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
রান তাড়ায় শুরুতেই আশা জাগান পেসার আল ফাহাদ। তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বলে জোসেফ মুরসকে ফিরিয়ে দেন তিনি। আগের বলেই সহজ ক্যাচ ফেলায় বেঁচে গেলেও পরের বলেই ডিপ থার্ডম্যানে স্বাধীন ইসলামের দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নেন ৬ বলে ১ রান করা মুরস। আরেক ওপেনার বেন ডকিন্সকে ফিরিয়ে দিলে ৯ ওভারে ইংল্যান্ডের স্কোর দাঁড়ায় ৩৯/২।
সেখান থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন ইংল্যান্ড অধিনায়ক টমাস রু। বেন মায়েসকে সঙ্গে নিয়ে গড়েন ৭৮ রানের জুটি। ৩৪ রান করা মায়েসকে সামিউন বাসীর ফেরালেও ততক্ষণে ম্যাচ বাংলাদেশের হাতছাড়া। অধিনায়ক রু শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৫৯ রানে এবং ম্যাচসেরার পুরস্কারও জেতেন তিনিই।
এমআই